বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল ও টাইম স্কেল পুনর্বহালের দাবি ২০২৫ । সরকারি কর্মচারীদের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি?

বেতন-ভাতায় সৃষ্ট চরম বৈষম্য দূরীকরণ ও বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবিলম্বে স্থায়ী পে-কমিশন গঠনসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। দাবি পূরণ না হলে ঈদের পর কঠোর কর্মসূচির ঘোষণার মাধ্যমে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (তারিখের উল্লেখ না থাকলে ধরে নেওয়া হলো সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী এ হুঁশিয়ারি দেন। মো. মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় ও ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক ও মহাসচিব মো. ছালজার রহমান

📌 মূল দাবি ও হতাশার কারণ

ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে, বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে চরম বেতন বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা এই বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বর্তমান বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা বলেন, ১-৯ গ্রেডের কর্মচারীদের সুবিধা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়লেও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা খুবই নগণ্য।

📢 সাত দফা দাবি

ঐক্য পরিষদ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি নিম্নলিখিত সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে:

১. নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন: পে-কমিশন গঠনপূর্বক বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। ২. মহার্ঘ ভাতা: পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে। ৩. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল: ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে বাতিল হওয়া টাইম স্কেলসিলেকশন গ্রেড অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। ৪. এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি: সচিবালয় এবং সচিবালয়ের বাইরের সব কর্মচারীর জন্য এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে। ৫. পদনাম পরিবর্তন ও গ্রেড উন্নীতকরণ: সচিবালয়ের মতো সব দপ্তর ও অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম পরিবর্তনসহ পদ ও বেতন বৈষম্য দূর করে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ করতে হবে। ৬. রেশন পদ্ধতি ও পেনশন: সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে রেশন পদ্ধতি চালু করতে হবে এবং বিদ্যমান গ্র্যাচুইটির হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণসহ পেনশন গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ৭. শিক্ষক ও আদালত কর্মচারীদের দাবি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়নসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় সহায়ক কর্মচারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

⚠️ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে প্রাপ্ত বেতনের অর্থ দিয়ে মাসের ১৫ দিনও চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি এই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হওয়ার পর দাবি আদায় না হলে ঈদের পর দেশের সব সরকারি কর্মচারীকে নিয়ে কঠোর রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নিকট পে স্কেল নিয়ে স্মারকলিপি দিবে?

হ্যাঁ। সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি, বিশেষ করে নবম পে-স্কেল ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করছে। অনুসন্ধান অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, এটি তাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির একটি অংশ। স্থানীয় প্রশাসন, যেমন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মাধ্যমে তারা প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের সাত দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পৌঁছে দিচ্ছেন।

উদাহরণস্বরূপ:

  • বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ-এর পক্ষ থেকে বরগুনা জেলা শাখা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

  • একইভাবে, বাবুগঞ্জ উপজেলায় কর্মচারীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মাধ্যমে উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

সুতরাং, আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী, পে-স্কেল ও অন্যান্য দাবি নিয়ে প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি তাদের চলমান আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

Alamin Mia

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *