সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

পে স্কেল ও সচিবালয় ভাতার দাবিতে সচিবালয়ে উত্তাল পরিস্থিতি, অর্থ উপদেষ্টাকে অবরোধ!

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রিতা, মহার্ঘ ভাতার বঞ্চনা এবং ন্যায্যমূল্যে রেশন সুবিধার দাবির পাশাপাশি ২০ শতাংশ ‘সচিবালয় ভাতা’র দাবিতে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় তিন থেকে চারশো কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় তলায় অবস্থান নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে তাঁর দপ্তরে অবরুদ্ধ করেন।

দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আন্দোলনকারীরা এসময় হ্যান্ড মাইকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং ভেতরে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার পথ আটকে দেন, যার ফলে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

🚨 মূল দাবিসমূহ ও আন্দোলনের কারণ

বিক্ষোভরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ২০ শতাংশ ‘সচিবালয় ভাতা’: তাদের প্রধান ও তাৎক্ষণিক দাবি হলো সচিবালয়ে কর্মরত সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ২০ শতাংশ বিশেষ সচিবালয় ভাতা চালু করা। একজন আন্দোলনকারী সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) জানান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবরা রাতে যত সময় অফিসে থাকেন, তাদেরও ততটা থাকতে হয়, অথচ অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীরা পে-স্কেলের বাইরে নানা ভাতা পেলেও তারা তা থেকে বঞ্চিত।

  • পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও মহার্ঘ ভাতা: নবম পে-কমিশন গঠন করা হলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন করবে না বলে অর্থ উপদেষ্টা আগেই সাফ জানিয়ে দেওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মহার্ঘ ভাতা চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

  • রেশন সুবিধা: আন্দোলনকারীরা জানান, এর আগেও তারা রেশনের দাবিতে অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। সেসময় তিনি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তারা ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত রেশন সুবিধা প্রবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন।

⏳ দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ

বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, টাইমস্কেল-সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ এবং রেশন সুবিধা প্রবর্তনের মতো পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে আসছে। এমনকি, সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যেই পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। চলমান এই অচলাবস্থা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, কারণ দাবি পূরণে বিলম্ব বা অবহেলা প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য কি?

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ও অর্থসচিব একটি জরুরি বৈঠক করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের বার্তা পাঠিয়েছেন।

এখানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য এবং পদক্ষেপের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

🚨 অবরুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও বার্তা

বিক্ষোভ চলাকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তাঁর কার্যালয় (অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে) প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ছিলেন।

  • প্রত্যক্ষ বক্তব্য: অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। (সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো)

  • কার্যালয়ের অবস্থান: বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থ উপদেষ্টা তাঁর কার্যালয়েই আছেন এবং আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। (সূত্র: প্রথম আলো, যুগান্তর)

  • অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও বার্তা: পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সন্ধ্যায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠক করেছেন

  • আন্দোলনকারীদের প্রতি বার্তা: বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি হবে—এমন বার্তা তাঁদের কাছে পাঠানো হয়।

  • আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া: আন্দোলনকারীরা এই বার্তা মানেননি এবং আজই (১০ ডিসেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান ও তাঁদের অবস্থান ধরে রাখেন।

🗣️ পূর্বের ও সাধারণ মন্তব্য (দাবির প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক)

যদিও অবরোধের সময় তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি, তবে সরকারি কর্মচারীদের মূল দাবি (পে-স্কেল ও মহার্ঘ ভাতা) নিয়ে তাঁর পূর্বের কিছু বক্তব্য ছিল, যা কর্মচারীদের ক্ষোভের কারণ হয়েছিল:

  • নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন: তিনি আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই সরকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে যাবে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে। (সূত্র: ইত্তেফাক, যুগান্তর, প্রথম আলো)

  • পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্ব: তিনি বলেছিলেন, “পে স্কেল ঘোষণা করা সহজ কাজ নয়, অনেকগুলো বিষয় জড়িত। কর্মচারীদের আল্টিমেটামের মধ্যে এতো কম সময়ে ঘোষণা করা সম্ভব হবে না। আমরা কাজ করছি।” (সূত্র: দৈনিক শিক্ষা)

  • ধৈর্য ধরার আহ্বান: নতুন পে-কমিশনের উদ্যোগ তাঁরাই নিয়েছেন উল্লেখ করে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়া অপ্রত্যাশিত, “একটু ধৈর্য ধরতে হবে।” (সূত্র: প্রথম আলো)

সারসংক্ষেপে, অবরোধ চলাকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সরাসরি কোনো বিবৃতি দেননি। তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারির আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।

Alamin Mia

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *