অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ: বেড়েছে অধিকাংশের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নাকি নগদ টাকা?
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের (৩০ জুন পর্যন্ত) সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত এক বছরে অধিকাংশ উপদেষ্টার মোট সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানতের মুনাফা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তিই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদের পরিমাণ এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৪ সাল: ১৪,০১,৩৯,৬৭৩ টাকা।
২০২৫ সাল: ১৫,৬২,৪৪,০৬৫ টাকা। তার সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, আমানতের সুদ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদ ২.১১ কোটি টাকা থেকে কমে ১.২৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
শীর্ষ সম্পদধারী উপদেষ্টাদের তথ্য
নথি বিশ্লেষণে কয়েকজন উপদেষ্টার সম্পদের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে:
শেখ বশিরউদ্দীন: আর্থিক ও অ-আর্থিক সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯১.৬৫ কোটি টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণও ২.১০ কোটি টাকার উপরে।
অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার: ২০২৪ সালে তার মোট সম্পদ ছিল ৪.৪৬ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৫.৮৩ কোটি টাকা হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল: তার মোট সম্পদ ১.৪৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১.৬০ কোটি টাকা হয়েছে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: ২০২৪ সালে তার সম্পদ ছিল ২.২৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে ১.১২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। তবে তার স্বামীর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৯০ কোটি টাকা।
বিদেশে সম্পদ ও দায়
কয়েকজন উপদেষ্টার বিদেশেও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে:
ড. খলিলুর রহমান: তার বাংলাদেশে সম্পদের পাশাপাশি দেশের বাইরে ৪৬,৩৫,৮৫০ ইউএস ডলার মূল্যের সম্পদ (ইমারত ও ফ্ল্যাট) রয়েছে।
লুৎফে সিদ্দিকী: তিনি জানিয়েছেন যে তিনি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন না।
সম্পদ বৃদ্ধির কারণ ও বিশেষ মন্তব্য
প্রজ্ঞাপনে সম্পদ পরিবর্তনের কিছু নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে: ১. আদিলুর রহমান খান: উত্তরাধিকার সূত্রে গৃহসম্পত্তি ও কৃষি সম্পত্তি পাওয়ায় তার অ-আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ: ব্যাংক আমানতের মুনাফা এবং ডেভেলপার কোম্পানির সাথে চুক্তির কারণে তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া: ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে তার কোনো টিআইএন (TIN) ছিল না, ২০২৫ সালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৫,৩৪,৭১৭ টাকা।
বিঃদ্রঃ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনটি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ
সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে কোন উপদেষ্টার?
উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে জনাব আদিলুর রহমান খানের।
তার সম্পদের পরিবর্তনের বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
জনাব আদিলুর রহমান খান: ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৮,২২,০০৭ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫২,৯৯,২৬৯ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬২ টাকা। এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি গৃহসম্পত্তি ও কৃষি সম্পত্তি লাভ করেছেন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস: তার মোট সম্পদ ১৪,০১,৩৯,৬৭৩ টাকা থেকে বেড়ে ১৫,৬২,৪৪,০৬৫ টাকা হয়েছে (বৃদ্ধি প্রায় ১ কোটি ৬১ লক্ষ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা)। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানতের মুনাফা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ার থেকে এই বৃদ্ধি ঘটেছে।
অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার: তার সম্পদ ৪,৪৬,৮৩,৯৮৭ টাকা থেকে বেড়ে ৫,৮৩,১০,৫৩৫ টাকা হয়েছে (বৃদ্ধি প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৫৪৮ টাকা)।
জনাব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ: তার সম্পদ ১৫,০৯,১৩,১০২ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,২২,৯৩,৪৮৩ টাকা হয়েছে (বৃদ্ধি প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৮১ টাকা)।
সার্বিকভাবে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে শতাংশ এবং অংক—উভয় দিক থেকেই জনাব আদিলুর রহমান খানের সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।


