উচ্চতর গ্রেডে রিভিউ আবেদন খারিজ ২০২৬ । টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড ভোগীদের উচ্চতর গ্রেড সুবিধা বহাল?
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। যারা আগে টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন, তারাও নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড পাবেন—মর্মে দেওয়া আগের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনটি খারিজ করে দেন।
এই রায়ের ফলে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পথ চূড়ান্তভাবে নিষ্কণ্টক হলো।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
২০১৫ সালের নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের পর টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে ‘উচ্চতর গ্রেড’ ব্যবস্থা চালু করা হয়। তবে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বলা হয়েছিল:
কোনো কর্মচারী আগে দুই বা ততোধিক টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে তিনি আর উচ্চতর গ্রেড পাবেন না।
শুধুমাত্র যারা একটি সুবিধা পেয়েছেন, তারা একটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন।
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে সংক্ষুব্ধ চাকরিজীবীরা হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট ওই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আপিল বিভাগে গড়ায় এবং ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আপিল বিভাগ চাকরিজীবীদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেন। আজ সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা রিভিউ আবেদনটিও খারিজ হয়ে গেল।
উচ্চতর গ্রেডের বর্তমান নিয়ম
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীদের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে নিম্নোক্ত নিয়ম কার্যকর রয়েছে:
একই পদে ১০ বছর চাকরির পর পদোন্নতি না পেলে ১১তম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড।
চাকরির ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ১৭তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড।
আদালতে শুনানি
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে মামলাটি নিশ্চিত করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ইব্রাহিম খলিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে আগের সুবিধাভোগীদের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
“এই রায়ের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটল। এটি ১৫ লাখ পরিবারের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।” — সংশ্লিষ্ট আইনজীবী
চাকরিজীবীদের বর্তমান অবস্থান
এদিকে, উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত এই আইনি বিজয়ের সমান্তরালে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ইতোমধ্যে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করছেন। এই রায় তাদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



