২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ: সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে মোট ২২ দিন ছুটি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জন্য সরকারি বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করেছে। নতুন বছরের এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬ সালে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে মোট ছুটির দিনের সংখ্যা ২২ দিন (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ছুটিগুলোসহ)। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে মিলে গেছে।
প্রধান সাধারণ ছুটিসমূহ: ক্যালেন্ডারে উল্লিখিত প্রধান সাধারণ ছুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
২১ ফেব্রুয়ারি (০৮ ফাল্গুন): শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
২৬ মার্চ (১২ চৈত্র): স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
০১ মে (১৮ বৈশাখ): মে দিবস।
১৬ ডিসেম্বর (০১ পৌষ): বিজয় দিবস।
২৫ ডিসেম্বর (১০ পৌষ): যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন)।
ধর্মীয় উৎসব ও অন্যান্য ছুটি: চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ছুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ঈদুল ফিতর: ২০ মার্চ (সম্ভাব্য)।
ঈদুল আজহা: মে মাসের শেষ দিকে (সম্ভাব্য)।
ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): ২৬ আগস্ট।
দূর্গাপূজা (বিজয়া দশমী): ২১ অক্টোবর।
বুদ্ধ পূর্ণিমা: মে মাসের শুরুর দিকে।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন: ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে একটি বিশেষ দিবস যুক্ত হতে দেখা গেছে, তা হলো ০৫ আগস্ট (২১ শ্রাবণ) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। এই দিনটিকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল পার্বত্য জেলাসমূহের জন্য ‘বৈসাবি’ বা বৈসুক, সাঙ্গ্রাই ও বিজু উৎসবের কারণে বিশেষ ছুটির কথা উল্লেখ আছে।
সাপ্তাহিক ছুটি: ক্যালেন্ডারে লাল রঙে চিহ্নিত তারিখগুলো সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য বরাবরের মতো শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে বহাল থাকছে। তবে অনেকগুলো ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটি এই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ার কারণে কার্যকর কর্মদিবসের ছুটির সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।

নির্বাহী আদেশে ছুটি কি?
সহজ কথায়, নির্বাহী আদেশে ছুটি হলো এমন ছুটি যা সরকার তার বিশেষ ক্ষমতা বা নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করে। এটি মূলত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বা উৎসবের দিনগুলোর জন্য দেওয়া হয়।
আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের সরকারি ছুটি থাকে:
১. সাধারণ ছুটি: যেমন— ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর বা দুই ঈদের প্রধান দিনগুলো।
২. নির্বাহী আদেশে ছুটি: এগুলো মূলত ঈদের আগের বা পরের দিন, শবে বরাত, শবে কদর বা দুর্গাপূজার বাড়তি সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
আপনার দেওয়া ক্যালেন্ডারটির আলোকে নির্বাহী আদেশের ছুটির কিছু বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. উৎসবকে দীর্ঘ করা
সাধারণত ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার মূল দিনটি ‘সাধারণ ছুটি’। কিন্তু মানুষ যাতে প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটাতে পারেন, সেজন্য সরকার ঈদের আগের ও পরের দিনগুলোকে ‘নির্বাহী আদেশে ছুটি’ হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে ছুটির একটি লম্বা ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।
২. ধর্মীয় গুরুত্ব
শবে বরাত, শবে কদর বা বুদ্ধ পূর্ণিমার মতো দিনগুলো অনেক সময় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ছুটি দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারেও ধর্মীয় উৎসবের সময় এমন ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৩. সরকারের বিশেষ ক্ষমতা
দেশের কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বা উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার চাইলে যেকোনো দিনকে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করতে পারে। যেমন— আপনার দেওয়া তালিকায় ৫ই আগস্টকে একটি বিশেষ দিবস হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সরকার তার নির্বাহী সিদ্ধান্তে তালিকায় যুক্ত করেছে।
সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটির মধ্যে পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ ছুটি | নির্বাহী আদেশে ছুটি |
| ধরন | আইনত বা প্রথাগতভাবে স্থায়ী। | সরকার প্রতি বছর পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ঘোষণা করে। |
| উদাহরণ | বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস। | ঈদের বাড়তি দিনগুলো, শবে বরাত। |
| কাদের জন্য | সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। | মূলত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস (বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এটি অনুসরণ করতে পারে)। |
ঐচ্ছিক ছুটি কখন নিতে হয়?
ঐচ্ছিক ছুটি বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে নিয়ে রাখতে হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ঐচ্ছিক ছুটি হলো সেই ছুটি যা একজন কর্মচারী তার নিজ ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিশেষ উৎসব পালনের জন্য ভোগ করতে পারেন। আপনার দেওয়া ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারের নিচের অংশেও এই ছুটির তালিকা এবং নিয়মাবলি উল্লেখ রয়েছে। ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার নিয়মগুলো নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
১. কত দিন নেওয়া যায়?
একজন সরকারি কর্মচারী বছরে তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী সর্বমোট ৩ (তিন) দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারেন। আপনি তালিকায় অনেকগুলো দিনের নাম দেখলেও সেখান থেকে বেছে নিয়ে মাত্র ৩ দিনই নিতে পারবেন।
২. কখন আবেদন করতে হয়?
ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার জন্য বছরের শুরুতেই পরিকল্পনা করতে হয়:
বছরের শুরুতে আবেদন: সাধারণত বছরের শুরুতে (জানুয়ারি মাসের মধ্যে) একজন কর্মচারীকে তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী কোন ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে চান, তা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হয়।
অনুমোদন বাধ্যতামূলক: এই ছুটি ভোগ করার আগে অবশ্যই অফিস প্রধান বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমোদন থাকতে হবে। অনুমোদন ছাড়া এই ছুটি কাটানো যায় না।
৩. কাদের জন্য কোন দিনগুলো?
মুসলিম: শবে বরাত, শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার পরের দিন ইত্যাদি (৫টি দিনের মধ্য থেকে ৩ দিন)।
হিন্দু: সরস্বতী পূজা, শিবরাত্রি, মহালয়া, দুর্গাপূজার অতিরিক্ত দিন, শ্যামা পূজা ইত্যাদি (৮টি দিনের মধ্য থেকে ৩ দিন)।
খ্রিস্টান: ইংরেজি নববর্ষ, ভস্ম বুধবার, ইস্টার সানডে ইত্যাদি (৮টি দিনের মধ্য থেকে ৩ দিন)।
বৌদ্ধ: মাঘী পূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা, আশ্বিনী পূর্ণিমা ইত্যাদি (৭টি দিনের মধ্য থেকে ৩ দিন)।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: বৈসাবি বা অনুরূপ সামাজিক উৎসবের জন্য পার্বত্য জেলাসমূহে কর্মরতদের জন্য ২ দিন।
৪. ছুটির সমন্বয়
ঐচ্ছিক ছুটি সাধারণত সাধারণ ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির (শুক্র ও শনিবার) সাথে মিলিয়ে নেওয়া যায়। যেমন— যদি বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি থাকে, তবে আপনি চাইলে পরবর্তী রবিবার ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে একটি লম্বা বিরতি কাটাতে পারেন (যদি আগে থেকে অনুমোদিত থাকে)।
সারসংক্ষেপ: আপনি যদি ২০২৬ সালে ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে চান, তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই আপনার পছন্দের ৩টি দিন নির্বাচন করে অফিসে আবেদন করে রাখুন।



