ঈদের আগে বিষণ্ণ সরকারি কর্মচারীরা: পে-স্কেল না হওয়ার আক্ষেপে ত্যাগের অঙ্গীকার
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে শেষ অফিস করে ঘরে ফিরছেন সরকারি কর্মচারীরা। অন্যান্য বছর উৎসবের আমেজ থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর মনে জমেছে চাপা কষ্ট ও হাহাকার।
ত্যাগের মহিমায় দেশের স্বার্থ রক্ষা
সূত্রমতে, নতুন পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ রাষ্ট্রের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি সরকারি চাকরিজীবীরা। মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মচারীর মতে, “আমরা সরকারের অংশ। দেশের স্বার্থ যদি আগে হয়, তবে আমরা হাসিমুখে ত্যাগ করতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই ত্যাগের কি কোনো মূল্যায়ন হবে না?”
অধিকার বনাম ত্যাগের লড়াই
সরকারি কর্মচারীদের আক্ষেপের মূল জায়গাটি অন্যখানে। তারা বলছেন, প্রশাসন সচল রাখা এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেন, তাদের ন্যায্য পাওনা কি বারবার অপেক্ষার তালিকায় থাকবে? তাদের ভাষ্যমতে:
আস্থার সংকট: বারবার পে-স্কেল পিছিয়ে যাওয়ায় কর্মচারীদের মনোবল হ্রাস পাচ্ছে।
আর্থিক চাপ: বর্তমান বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেলাতে কম বেতনে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্য ও নিম্নবর্গের কর্মচারীরা।
মর্যাদার দাবি: এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং জীবনমানের সাথে সংগতিপূর্ণ বেতন পাওয়া তাদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার।
“সরকারি চাকরি শুধু একটি জীবিকা নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি এক পবিত্র অঙ্গীকার। তবে মনে রাখতে হবে, একজন কর্মচারীর মনোবলই রাষ্ট্রের প্রশাসনের মূল শক্তি। সেই মনোবল ভেঙে গেলে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রেরই বড় ক্ষতি হয়।”
শবে কদরের রাতে আল্লাহর ওপর ভরসা
আজকের এই বিষণ্ণতার মাঝেও কর্মচারীদের মধ্যে এক দৃঢ় আধ্যাত্মিক বিশ্বাস লক্ষ করা গেছে। তারা মনে করছেন, মানুষের কাছে চেয়ে যখন সমাধান মিলছে না, তখন সর্বোচ্চ বিচারক মহান আল্লাহর দরবারেই আর্জি জানানো শ্রেয়। আজ পবিত্র শবে কদরের রাতে তারা তাদের হক আদায়ের জন্য বিশেষ মোনাজাতের আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মচারীদের বক্তব্য— “মানুষের সাধ্য নেই কিছু করার যদি আল্লাহ না চান। আমরা মজলুম হিসেবে আল্লাহর কাছেই আমাদের ন্যায্য অধিকার চাচ্ছি।”
উপসংহার
ঈদের আনন্দ মলিন হলেও সরকারি কর্মচারীরা আশায় বুক বাঁধছেন যে, খুব দ্রুতই সরকার তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের প্রতি তাদের যেমন দায়িত্ব আছে, রাষ্ট্রেরও তাদের প্রতি সমান দায়িত্ব রয়েছে। এই ত্যাগের মহিমা যেন অমর্যাদার চাদরে ঢাকা না পড়ে, এটাই এখন সাধারণ কর্মচারীদের একমাত্র প্রত্যাশা।



