জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তন নিয়ে নতুন নির্দেশনা: জেনে নিন বিস্তারিত আবেদন পদ্ধতি ও ফি
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দলিল। অনেক সময় দেখা যায়, অসতর্কতার কারণে বা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বর্তমান ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং এ সংক্রান্ত সবশেষ সরকারি নির্দেশনা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো।
আবেদন করতে হবে সশরীরে, লাগবে ‘সংশোধন ফরম-২’
জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি এবং স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে হলে অনলাইন আবেদনের কোনো সুযোগ নেই। আবেদনকারীকে অবশ্যই তিনি যেই এলাকার ভোটার, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে গিয়ে ‘সংশোধন ফরম-২’ পূরণ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
AFIS রিপোর্ট বাধ্যতামূলক (সম্পূর্ণ ফ্রি)
ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের আবেদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযুক্তি হলো AFIS (Automated Fingerprint Identification System) রিপোর্ট। ফরম-২ জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর এই AFIS রিপোর্ট অবশ্যই সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
কোথায় পাবেন: বর্তমানে দেশের সব জেলা নির্বাচন অফিসে এই AFIS রিপোর্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (বিনা ফি-তে) করানো যায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুব দ্রুতই মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসগুলোতেও এই AFIS রিপোর্ট করার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
সরকারি ফি এবং জমা দেওয়ার মাধ্যম
জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩০/- (দুইশত ত্রিশ) টাকা।
জরুরি সতর্কবার্তা: জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সংক্রান্ত কোনো ফি এখন আর সরকারি চালানের (Treasury Chalan) মাধ্যমে জমা নেওয়া হয় না।
গ্রাহকদের সুবিধার্থে এই ফি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। বিকাশ (bKash) বা রকেট (Rocket)-এর বিল পে অপশনে গিয়ে “NID Info Correction” অ্যাপ্লিকেশন টাইপ সিলেক্ট করে এই ২৩০ টাকা ফি জমা দেওয়া যাবে।
যেভাবে হবে চূড়ান্ত অনুমোদন ও নতুন ছবি-স্বাক্ষর গ্রহণ
ফি জমা এবং ফরম জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে সরাসরি আবেদনকারীর নতুন ছবি তোলা হবে এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠানো হয়।
যেহেতু ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদনটি “ক” ক্যাটাগরির আওতাভুক্ত, তাই এই আবেদনগুলো সাধারণত সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসার নিজেই যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়ে থাকেন। ফলে আবেদন নিষ্পত্তিতে বাড়তি সময় লাগার সম্ভাবনা কম থাকে।
নতুন NID কার্ড সংগ্রহ
আবেদনটি সফলভাবে অনুমোদিত হলে আবেদনকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। মেসেজ পাওয়ার পর আবেদনকারী জাতীয় পরিচয়পত্র উইংয়ের অনলাইন পোর্টাল থেকে তাঁর নতুন ছবি ও স্বাক্ষর সংবলিত NID কার্ডের কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে সরাসরি নতুন লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ডিজিটাল ও পদ্ধতিগত সংস্কারের ফলে নাগরিকরা এখন আরও সহজে এবং দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়াই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে পারছেন।


