একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে আনুতোষিক ও পেনশন বন্টন পদ্ধতি।

সরকারি চাকরিজীবীদের একাধিক স্ত্রী থাকলে হঠাৎ চাকরিজীবী মারা গেলে আনুতোষিক ও পেনশন বন্টনে বিপাকে পড়তে হয়। এক্ষেত্রে অনুচ্ছেদটি জানা থাকলে কাজে আসবে আশা করি।

ক। আনুতোষিক বন্টন পদ্ধতি

১। বৈধ মনোনয়ন থাকার ক্ষেত্রে: বৈধ মনোনয়ন থাকার ক্ষেত্রে মনোনয়নে বর্ণিত পরিবারের সদস্য/সদস্যগণ মনোনয়নের বিধান অনুসারে আনুতোষিক প্রাপ্য।

২। বৈধ মনোনয়ন না থাকার ক্ষেত্রে: আনুতোষিক সম্পূর্ণ বা কোন অংশের জন্য পরিবারের কোন সদস্য/সদস্যদের অনুকূলে মনোনয়ন না থাকার ক্ষেত্রে স্মারক নং ২৫৬৬(৪০)-এফ, তারিখ: ৬ এপ্রিল, ১৯৫৯ এর সেকশন-১ এর ৩ নং অনুচ্ছেদ এবং সংযুক্ত ফরম “এ” ও “বি” এবং পেনশন সহজীকরণ নীতিমালার বিধান অনুযায়ী একাধিক স্ত্রী এবং পরিবারের একাধিক সদস্য থাকার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সদস্যগণের মধ্যে আনুতোষিক সমহারে বন্টিত হইবে-

(১) প্রত্যেক জীবিত বিধবা স্ত্রী;

(২) ২৫ বৎসরের অধিক বয়স্ক নয় এমণ প্রত্যেক পুত্র সন্তান;

(৩) প্রতিবন্ধী সন্তান;

(৪) অবিবাহিত কণ্যা;

(৫) বিধবা কন্যা;

(৬) মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা, ১৮ বৎসরের অধিক বয়স্ক নয় এমণ পুত্র সন্তান। মৃত পুত্রের এই সকল উত্তরাধিকারীগণ সকলে মিলে মৃত পুত্র জীবিত থাকিলে যে অংশ পাইতেন, ঐ পরিমাণ অংশ প্রাপ্য।

উল্লেখ্য একাধিক স্ত্রী এবং পরিবারের যোগ্য সদস্য থাকা সত্ত্বেও চাকরিজীবী স্মারক নং ২৫৬৬ (৪০)-এফ, তারিখ: ১৬ এপ্রিল, ১৯৫৯ এর সেকশন-১ এর ৩ নং অনুচ্ছেদ এবং সংযুক্ত ফরম “এ” ও “বি” মোতাবেক এক বা একাধিক স্ত্রীকে অথবা পরিবারের এক বা একাধিক অন্য কোন সদস্যকে আনুতোষিকের সম্পূর্ণ অংশের জন্য মনোনয়ন করিলে মনোনীত স্ত্রী বা সদস্যই কেবল আনুতোষিক পাইবে। এইক্ষেত্রে অন্যান্য স্ত্রী বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ আনুতোষিক পাইবেন না।

খ। পেনশন বন্টন পদ্ধতি

(১) মনোনয়ন থাকার ক্ষেত্রৈ: স্মারক নং ২৫৬৬(৪০)-এফ, তারিখ: ১৬ এপ্রিল, ১৯৫৯ এর সেকশন-২ এর ৫ (২)(এ)(i) নং অনুচ্ছেদ এবং পেনশন সহজীকরণ নীতিমালা ৩.০১ অনুচ্ছেদ এবং সংযোজণী-২ ও সংযোজনী-৩ মোতাবেক একাধিক স্ত্রী এবং পরিবারের একাধিক যোগ্য সদস্য থাকা সত্ত্বে চাকরিজীবী এক বা একাধিক স্ত্রীকে অথবা পরিবারের এক বা একাধিক অন্য কোন সদস্যকে পেনশনের সম্পর্ণ অংশের জন্য মনোনয়ন করিলে মনোনীত অন্য কোন সদস্যকে কেবল মনোনয়ন পত্রে উল্লিখিত হারে পেনশন পাইবেন। এইক্ষেত্রে অন্যান্য স্ত্রী বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ পেনশন পাইবেন না। তবে পরবর্তী পর্যায়ে মনোনীত স্বামী/স্ত্রী পুনর্বিবাহ করিলে বা মনোনীত কণ্যা সন্তান বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে মনোনীত পুত্র সন্তানের বয়স ২৫ বৎসর হইলে পেনশন প্রাপ্তির যোগ্যতা হারাইবে। এইক্ষেত্রে তাঁহাদের অনুকূলে প্রদত্ত মনোনয়ন আপনা হইতে অকার্যকর হইয়া পড়ে বিধায় অন্যান্য স্ত্রীগণ এবং যোগ্য সন্তানগণ পেনশন পাওয়ার অধিকারী হইবেন।

(২) বৈধ মনোনয়ন না থাকার ক্ষেত্রে: কোন মনোনয়ন না থাকার ক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী এবং যোগ্য সন্তানদের মধ্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতে পেনশন বন্টিত হইবে-

(ক) জীবিত বিধবা স্ত্রী এবং যোগ্য সন্তানের সংখ্যঅ একত্রে ৪ এর অধিক না হইলে সকল স্ত্রী এবং যোগ্য সন্তানগণ (প্রতিবন্ধী সন্তান ব্যতীত ২৫ বৎসরের অধিক বয়স্ক অন্যান্য পুত্র সন্তান এবং বিবাহিত কন্যা বাদে) প্রত্যেকে সমহারে একত্রে পেনশন পাইবেন।

(খ) জীবিত বিধবা স্ত্রী এবং যোগ্য সন্তানের সংখ্যা (প্রতিবন্ধী সন্তান ব্যতীত ২৫ বছরের অধিক বয়স্ক পুত্র সন্তান এবং বিবাহিত কন্যা বাদে) একত্রে ৪ এর অধিক হইলে প্রত্যেক জীবিত বিধবা স্ত্রী ১/৪ অংশ হারে পেনশন পাইবে। প্রত্যেক স্ত্রীকে ১/৪ অংশ হারে দেওয়ার পর কোন অংশ অবশিষ্ট থাকিলে উক্ত অংশ অবশিষ্ট অংশ প্রত্যেক যোগ্য সন্তান সমহারে পাইবেন।

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.