ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত ২০২৬ । কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে সরকার?

নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বৈঠকেই প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এল। শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ ঐতিহাসিক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বিকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

উপকারভোগী ও বরাদ্দের পরিমাণ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে:

  • উপকারভোগী কৃষক: দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

  • মোট মওকুফকৃত অর্থ: সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করা হবে।

  • ঋণের ক্ষেত্র: শুধু শস্য বা ফসল নয়, বরং মৎস্য চাষ এবং পশুপালন খাতের ঋণের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

সচিবের বক্তব্য

নাসিমুল গনি বলেন, “১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার পর বর্তমান সময় পর্যন্ত যে পরিমাণ সুদই জমা হোক না কেন, সুদ-আসলসহ পুরো পাওনা মওকুফ করে দেওয়া হবে। এর ফলে কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন এবং পুনরায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারবেন। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রান্তিক কৃষকদের মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের হাত থেকে রক্ষা করবে।”

অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন কমবে এবং গ্রামীণ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তৎকালীন সরকারের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, এবারের সিদ্ধান্তটি কৃষি খাতে উৎপাদনে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে কৃষকদের এই পরিমাণ বকেয়া পাওনা রয়েছে, যা এখন সরকার পরিশোধের দায়িত্ব নিল।

পূর্বের ঋণ মওকুফ করবে সরকার?

হ্যাঁ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পুরনো কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রধান দিকগুলো হলো:

১. ঋণের সীমা: যে সকল কৃষক শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছিলেন, তাদের সেই ঋণের আসল এবং জমে থাকা সমস্ত সুদ মওকুফ করা হবে। ২. উপকারভোগী: সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ৩. মোট বরাদ্দ: সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪. উদ্দেশ্য: প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দেওয়া এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, এটি বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্ত যা দ্রুত কার্যকর করা হবে। এর ফলে কৃষকরা পুনরায় ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *