৪০ কেজিতেই মণ: কৃষি পণ্য কেনা-বেচায় ‘ঢলতা’ বা অতিরিক্ত ওজন নিলে আইনি ব্যবস্থা
দেশের বাজারে পেঁয়াজ, আমসহ অন্যান্য কৃষি পণ্য কেনা-বেচার ক্ষেত্রে ওজনে অনিয়ম বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এখন থেকে ৪০ কেজিতেই এক মণ হিসেবে পণ্য কেনা-বেচা করতে হবে। এর বাইরে ‘ঢলতা’ বা ‘শুকনা’ অজুহাতে কৃষকের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া যাবে না। যদি কোনো পাইকার বা আড়তদার এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনিয়মের চিত্র ও অধিদপ্তরের অবস্থান: সম্প্রতি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী কৃষকদের নানা অজুহাতে ঠকাচ্ছেন। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আম কেনা-বেচার সময় প্রচলিত ওজনের বাইরে ‘ঢলতা’ বা ‘শুকনা’র দোহাই দিয়ে প্রতি ৪০ কেজিতে ২ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত পণ্য কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, কৃষকের কাছ থেকে ৪২ থেকে ৪৬ কেজিতে মণ হিসেবে পণ্য নেওয়া হলেও দাম দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজির।
আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানা: অধিদপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ এর অধ্যায় ৪, ধারা ২৯ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনিভাবে ৪০ কেজির ওপরে ১ গ্রাম পণ্যও বাড়তি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্দেশনায় দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কৃষকের স্বার্থ রক্ষা: কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই নির্দেশনার ফলে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই অনৈতিক প্রথা বন্ধ হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন। আদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো পাইকার কৃষকের অনিচ্ছায় বা জোরপূর্বক অতিরিক্ত পণ্য দাবি করলে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত অবহিত করতে হবে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং বাজারগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কৃষি পণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



