গণ কর্মচারী (সাজাপ্রাপ্তিতে বরখাস্ত) অধ্যাদেশ, ১৯৮৫

The Public Servants (Dismissal on Conviction) Ordinance, 1985 (Ordinance No. V of 1985)

০৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫, সুপ্রীম কোর্টের রায়ে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাইলে, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান), ২০১৩’ (২০০৩ সনের ৭নং আইন) দ্বারা এই অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা বহাল রাখা হয়।)

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম। –এই অধ্যাদেশ গণকর্মচারী (সাজাপ্রাপ্তিতে বরখাস্ত) অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ নামে অভিহিত হইবে।

২। সংজ্ঞা।- এই অধ্যাদেশে বিষয়ের বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে-

(এ) “গণকর্মচারী” অর্থ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সরকার কর্তৃক বা কোন আইন দ্বারা বা আইনের অধীনে সৃষ্ট বা স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন সংঘ, কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাসহ যে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের, বিধিবদ্ধ করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান, ডাউরেক্টর, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, ট্রাস্টি, মেম্বার, কমিশনার, শিক্ষক, কর্মকর্তা বা অন্যান্য কর্মচারী। তবে নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ গণকর্মচারীর অন্তর্ভুক্ত হইবেন না-

(১) প্রতিরক্ষা বাহিনীল কোন সদস্য, অথবা

(২) কোন আইনের অধীনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ;

(বি) “তফসিল” অর্থ এই অধ্যাদেশের সহিত সংযুক্ত তফসিল।

৩। সাজাপ্রাপ্তির কারণে বরখাস্ত। –(১) বিদ্যমান অন্য যে কোন আইনে অথবা কোন বিধি, প্রবিধি, উপ-আইন, দলিলপত্র বা চুক্তি বা চাকরির শর্তাবলীতে যাহা কিছুটি বর্ণিত থাকুক না কেন, কোন গণকর্মচারী তফসিলে বর্ণিত ফৌজদারী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হইলে, রায় বা সাজার আদেশ ঘোষণার তারিখ হইতে তাৎক্ষনিকভাবে চাকরি হইতে বরখাস্ত হিসাবে গণ্য হইবেন।

(২) তফসিলে বর্ণিত ফৌজদারী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যীক্ত একজন গণকর্মচারী, ইহা যদি বিচার কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে আদালতের গোচরে আসে, তাহা হইলে আদালত রায় বা আদেশ ঘোষণার পর পরই সাজা প্রদানের বিষয়টি গণকর্মচারীর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবেন।

(৩) উপধারা (১) এর অধীনে বরখাস্তকৃত গণকর্মচারী আপিলের মাধ্যমে আপিল আদালত কর্তৃক খালাস পাইলে তিনি চাকরিতে পুর্নবহাল হইবেন, যদি না ইতোমধ্যে তিনি অবসর গ্রহণের বয়সে উপনীত হইয়া থাকেন অথবা সংশিষ্ট পদ বা চাকরি বিলুপ্ত হইয়া থাকে।

৪। অব্যাহতি ইত্যাদি।-(১) যেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি পরিতুষ্ট হন যে, কোন গণকর্মচারীকে ধারা-৩ এর বিধান হইতে অধ্যাহতি দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে তিনি আদেশের মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, উক্ত গণকর্মচারীর উপর ধারা ৩ প্রযোজ্য হইবে না।

(২) যে ক্ষেত্রে উপধারা (১) এর অধীনে রাষ্ট্রপতি কোন আদেশ প্রদান করেন, সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ নয়, এমণ কর্তৃপক্ষ উক্ত গণকর্মচারী সম্পর্কে বরখাস্তের আদেশ ব্যতীত অন্য যে কোন আদেশ যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে করেন, সেইরূপ আদেশ দিতে পারিবেন।

৫। অন্যান্য আইনের প্রয়োগ, ইত্যাদি।-এই অধ্যাদেশের বিধানসমূহ গণকর্মচারীর শৃঙ্খলামূলক বিষয়সহ চাকরির শর্তাবলী সংক্রান্ত বিদ্যমান অন্য যে কোন আইন, বিধি বা প্রবিধির অতিরিক্ত, কিন্তু পরিপন্থী নয়।

তফসিল

[ধারা-৩(১)]

[যে কোন আইনে মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা এক বৎসরের অধিক কারাদন্ড বা দশ হাজার টাকা অধিক জরিমানা দন্ড, বা উভয় প্রকার দন্ডের বিধান সম্বলিত অপরাধ।]

বিশ্লেষণ: ট্রান্সপোর্টেশন বা দ্বীপান্তর দন্ড বলিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বুঝায়।

২০০৯ সনের ৪৩ নং আইনের দ্বারা Schedule এর “Six months” শব্দগুলির পরিবর্তে “One Year” এবং “One Thousand” শব্দগুলির পরিবর্তে Ten Thousand” শব্দগুলি প্রতিস্থাপন করা হয়।

প্রশ্নোত্তর:

  • প্রশ্ন: যে কোন মামলায় ১ বছরের সাজা হলেই চাকরি নাই?
  • উত্তর: হ্যাঁ।
  • প্রশ্ন: ১০ হাজার টাকার অর্থ দন্ডে চাকরি চলে যাবে?
  • উত্তর: হ্যাঁ।

গণ কর্মচারী (সাজাপ্রাপ্তিতে বরখাস্ত) অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ PDF সংগ্রহে রাখুন: ডাউনলোড

Avatar

admin

আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভালবাসি চাকরি সংক্রান্ত বিধি বিধান জানতে ও অন্যকে জানাতে। আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন alaminmia.tangail@gmail.com ঠিকানায়। ধন্যবাদ আপনাকে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.