তালিকাভূক্ত কর্মচারীদের চাকুরীতে অনুপস্থিতিকালীন সময় অনুমোদিত ছুটি হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, ছুটি গণনা, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, বেতন নির্ধারণ, পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য উহা কোয়ালিফাইং সার্ভিস হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপে কোয়ালিফাইং সার্ভিস নির্ধারণের ক্ষেত্রে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন এবং সার্ভিস বহির প্রযোজ্যতা থাকিবে না।

বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৯, ২১৫, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রজ্ঞাপন, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫

এস.আর.ও নং ৩৮২-আইন/২০১৫।- যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এর মধ্যে বিগত ১৮ অগ্রাহয়ন ১৪০৪ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে সম্পদিত চুক্তি এর খ-(ঘ) এর ক্রমিক ১৬ এর দফা (ঙ) এ প্রত্যাগত জনসংহতি সমিতির সদস্যদের মধ্যে যাহারা পূর্বে সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত ছিলেন তাহাদেরকে স্ব স্ব পদে পুনবর্হাল করা হইবে মর্মে বিধান করা হইয়াছে; এবং

যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগ কর্তৃক বিগত ১২ নভেম্বর, ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নং স্পে:ত্র্যা : বি: (প্র-১)-১(ঞ)/৯৫ (অংশ-৩)-৫৩৩ দ্বারা সরকার কর্তৃক ২০ দফা প্যাকেজ সুবিধা এর মধ্যে ১২ নং দফায়, দেশ ত্যাগের পূর্বে যে সকল শরণার্থী সরকারি/ আধা সরকারি চাকুরীতে ছিলেন, প্রত্যাবর্তনের পর চাকুরীতে পুনর্বাসনের ব্যাপারে তাহাদের বিষয়ে সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করা হইবে এবং বিদ্যমান চাকুরীবিধি অনুযায়ী তাহাদেরকে জ্যেষ্ঠতা প্রদান ও চাকুরী সুবিধাসহ পুনর্বহালের ব্যবস্থা করা হইবে, মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছে; এবং যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নং ২৯.০০.০০০০.২৩২.২২.০২.১২.৩৭৯ দ্বারা (ক) পার্বত্য চুক্তির আওতায় দেশে প্রত্যাগত পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সদস্যবৃন্দের এবং (খ) পাবর্তব্য চুক্তি ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তির আওতায় ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় কর্মচারীদের চাকুরীতে পুর্বহালক্রমে চূড়ান্ত তালিকা গেজেটে প্রকাশ করা হইয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত রূপ পুনর্বহালকৃত উপজাতীয় কর্মচারীদেরকে চাকুরীতে বিশেষ সুবিধাদি প্রদান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৩ নং অনুচ্ছেদের শর্তাংশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি, উক্ত সংবিধানের ১৪০ (২) অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারি কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে নিম্নরূপ বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন, যথা:

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম।-এই বিধিমালা তালিকাভূক্ত কর্মচারী (বিশেষ সুবিধাদি) বিধিমালা, ২০১৫ নামে অভিহিত হইবে।

২। সংজ্ঞা। বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে এই বিধিমালায়-

(১) “অনুপস্থিতিকালীন সময়” অর্থ পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজিত অশান্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থানের কারণে তালিকাভূক্ত কর্মচারীর অনুপস্থিতিকালীন সময়;

(২) “কর্মচারী” অর্থ সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় নিয়োজিত কর্মচারী।

(৩) “তালিকাভূক্ত কর্মচারী” অর্থ পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে জারীকৃত এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এর মধ্যে বিগত ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪০৪ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে সম্পাদিত চুক্তি;

(৫) “পুর্নবহাল” অর্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত চুক্তি এবং ২০ দফা প্যাকেজ সুবিধার ১২ নং দফায় উল্লিখিত প্রত্যাগত তালিকাভূক্ত কর্মচারীদের চাকুরীতে পুনর্বহাল;

(৬) “২০ দফা প্যাকেজ সুবিধা” অর্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগ কর্তৃক বিগত ১২ নভেম্বর ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নং ষ্পে:এ্যাবি: (প্র:-১)(ঞ)/৯৫ (অংশ-৩)/৫৩৩ দ্বারা সরকার কর্তৃক ঘোষিত ২০ দফা প্যাকেজ সুবিধা।

৩। বিধিমালার প্রধান্য। আপাতত: বলবৎ অন্য কোন বিধিমালা বা প্রবিধানমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি ৯ এর বিধান সাপেক্ষে, তালিকাভূক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই বিধিমালার বিধান প্রাধান্য পাইবে।

৪। কোয়ালিফাইং সার্ভিস। তালিকাভূক্ত কর্মচারীদের চাকুরীতে অনুপস্থিতিকালীন সময় অনুমোদিত ছুটি হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, ছুটি গণনা, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, বেতন নির্ধারণ, পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য উহা কোয়ালিফাইং সার্ভিস হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপে কোয়ালিফাইং সার্ভিস নির্ধারণের ক্ষেত্রে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন এবং সার্ভিস বহির প্রযোজ্যতা থাকিবে না।

৫। বিশেষ সুবিধাদি, ইত্যাদি। –তালিকাভূক্ত কর্মচারী নিম্নবর্ণিত সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন, যথা:

(ক) তালিকাভূক্ত কর্মচারী তালিকাভূক্তির পূর্বে যে পদে নিয়োজিত ছিলেন এবং চাকুরীতে পুনবর্হালকৃত পদ, একই পদ অথবা সমপদ হিসাবে বিবেচিত হইবে;

(খ) তালিকাভূক্ত কর্মচারী, অনুপস্থিতকালীন সময়ের জন্য, তৎকালে প্রযোজ্য সংশ্লিষ্ট বিধিতে বর্ণিত হারে বেতন, বাড়ী ভাড়া, চিকিৎসা ভাড়া, পাহাড়ী ভাতা, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ইত্যাদি বকেয়া হিসাবে প্রাপ্য হইবেন;

(গ) তালিকাভূক্ত কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের (Pay Fixation) ক্ষেত্রে, অনুপস্থিতিকালীন সময় অনুমোদিত ছুটি হিসাবে চাকুরীর ধারাবাহিকতা বজায় থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রথম চাকুরীর যোগদানের তারিখ হইতে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে, প্রচলিত প্রাপ্যতা অনুযায়ী সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল গণনা করিয়া বেতন নির্ধারণ (Pay Fixation) করিতে হইবে এবং অত:পর উহা পুন: যোগদানের তারিখ হইতে কার্যকর হইবে ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বকেয়া বেতন, ভাতাদি প্রাপ্য হইবেন;

(অ) টাইম স্কেল প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ (স্ব-শাসিত (Public Bodies) এবং রাষ্ট্রয়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ) অনুচ্ছেদ-৭(১) অনুযায়ী টাকা ৪১০০-৭৭৪০ (২০ নং গ্রেড) হইতে ৮০০০-১৬৫৪০ (১০ নং গ্রেড) বেতনস্কেল বিশিষ্ট পদের আওতাভূক্ত কর্মচারীগণ একই অথবা সমপর্যায়ের পরস্পর বদলীযোগ্য পদের ৮, ১২ ও ১৫ বৎসর চাকুরী যথাক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় পরবর্তী উচ্চতর বেতনস্কেল (টাইমস্কেল) হিসাবে প্রাপ্য হইবেন;

(আ) সিলেকশন গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুনর্বহালকৃত উপজাতীয় কর্মচারীদের পদভিত্তিক যে সকল পদে পূর্বে হইতে সিলেকশন গ্রেড বিদ্যমান রহিয়াছে, কেবলমাত্র ঐ সকল পদের ক্ষেত্রে সিলেকশন গ্রেড প্রযোজ্য হইবে।

(ঘ) তালিকাভূক্ কর্মচারীর অনুপস্থিতিকালীন সময়কে পেনশনযোগ্য চাকুরীকাল এবং পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণনা করিতে হইবে এবং এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পূর্বে তালিকাভূক্ত যেসব কর্মচারী অবসর গ্রহণ করিয়াছেন অথবা মৃত্যুবরণ করিয়াছেন তাহাদের পেনশন ও আনুতোষিক উক্তরূপে নির্ধারণ করিতে হইবে।

৬। সমপদে পুনর্বহাল না করিয়া উচ্চ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান।- যে সকল তালিকাভূক্ত কর্মচারীকে সমপদে পুনর্বহাল না করিয়া উচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়া হইয়াছে তাহাদের জ্যেষ্ঠতা পরবর্তী পদে যোগদানের তারিখ হইতে গণনা করা হইবে, তবে যোগদানের পূর্বের চাকুরীর হিসাব পূর্ব পদের নিরিখে নিরুপিত হইবে।

৭। মৃত কর্মচারীর ক্ষেত্রে পারিবারিক পেনশন ও আনুতোষিক প্রদান সংক্রান্ত বিশেষ বিধান। (১) যে সকল কর্মচারী চাকুরীতে অনুপস্থিতিকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করিয়াছেন তাহাদের পরিবার পারিবারিক পেনশন ও আনুতোষিক প্রাপ্য হইবেন।

(২) উপ-বিধি (১) এর অধীনে মৃত কর্মচারীর, অনুপস্থিতিকালীন সময় (কর্মচারীর মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত) কর্তব্যরত হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং কোয়ালিফাইং সার্ভিস অনুযায়ী বিধি মোতাবেক চাকুরীকাল গণনাপূর্বক, পারিবারিক পেনশন ও আনুতোষিক নির্ধারণ করা হইবে।

৮। বকেয়া বেতন পরিশোধ। এই বিধিমালার অধীন কোন কর্মচারীর বকেয়া বেতন ভাতাদি তাহাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের বাজেট হইতে, প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, প্রদান করা হইবে।

৯। অন্য বিধিমালার প্রযোজ্যতা। এই বিধিমালায় উল্লিখিত হয় নাই এইরূপ সকল বিষয় স্ব স্ব কর্মচারীর প্রচলিত চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে

মো: কামাল উদ্দিন তালুকদার

অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)

 

তালিকাভূক্ত কর্মচারী (বিশেষ সুবিধাদি) বিধিমালা, ২০১৫ : ডাউনলোড

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3001 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *