জেলা সার্কিট হাউসের কক্ষ ভাড়া পুনর্নির্ধারণ: নতুন ভাড়া কার্যকর
দেশের জেলা পর্যায়ে অবস্থিত সার্কিট হাউসগুলোর কক্ষ ভাড়া (রুম রেন্ট) সংশোধন করে পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও পরিবীক্ষণ শাখা থেকে গত ৩০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। নতুন এই ভাড়ার হার অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাড়ার বিন্যাস
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন তাদের তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করে ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ১২:০০টা হতে পরদিন বেলা ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময়কালকে একদিনের ভাড়া হিসেবে গণ্য করা হবে।
১. সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা:
এই ক্যাটাগরিতে ভাড়া সবচেয়ে কম রাখা হয়েছে। অবস্থানের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া পরিবর্তিত হবে:
১-৩ দিন পর্যন্ত: সাধারণ শহরে এক শয্যার এসি কক্ষের ভাড়া ১৫০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ২০০ টাকা। দুই শয্যার এসি কক্ষের ভাড়া সাধারণ শহরে ২০০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ২৫০ টাকা।
৪-৭ দিন পর্যন্ত: এক শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ২০০ টাকা, ব্যয়বহুল শহরে ২৫০ টাকা। দুই শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ২৫০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ৩৫০ টাকা।
৭ দিনের ঊর্ধ্বে: এক শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ৪৫০ টাকা, ব্যয়বহুল শহরে ৬০০ টাকা। দুই শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ৭৫০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ৮৫০ টাকা।
২. সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, সেক্টর, কর্পোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা:
১-৩ দিন পর্যন্ত: এক শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ২০০ টাকা, ব্যয়বহুল শহরে ২৫০ টাকা। দুই শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ৩০০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ৩৫০ টাকা।
৪-৭ দিন পর্যন্ত: এক শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ২৫০ টাকা, ব্যয়বহুল শহরে ৩০০ টাকা। দুই শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ৩৫০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ৪৫০ টাকা।
৭ দিনের ঊর্ধ্বে: এক শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ৬০০ টাকা, ব্যয়বহুল শহরে ৭৫০ টাকা। দুই শয্যার ভাড়া সাধারণ শহরে ৮০০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ১,০০০ টাকা।
৩. বেসরকারি ব্যক্তিবর্গ বা বেসরকারি কর্মকর্তা:
বেসরকারি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অবস্থানের সময় নির্বিশেষে এক শয্যার এসি কক্ষের ভাড়া ১,৫০০ টাকা এবং দুই শয্যার এসি কক্ষের ভাড়া ১,৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যয়বহুল শহরের তালিকা
পরিপত্রে জানানো হয়েছে যে, অর্থ বিভাগের ২০২২ সালের একটি স্মারক অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শহরকে ‘ব্যয়বহুল শহর’ হিসেবে গণ্য করা হবে। শহরগুলো হলো: ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ও গাজীপুর।
বিশেষ নির্দেশনা
পরিপত্রে একটি বিশেষ ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কোনো সার্কিট হাউসে এক শয্যার কক্ষ খালি না থাকে এবং কোনো কর্মকর্তাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও দুই শয্যার কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তবে ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে দুই শয্যার পরিবর্তে এক শয্যার কক্ষের হারেই ভাড়া আদায় করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা জারির ফলে এখন থেকে সারা দেশের সার্কিট হাউসগুলোতে অভিন্ন ও নতুন এই ভাড়ার তালিকা কার্যকর হবে।


