সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

নারীর ক্ষমতায়নে মাইলফলক ২০২৬ । খালেদা জিয়ার অবৈতনিক শিক্ষার পর এবার প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড’

নারীর আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল ০৭ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতায়নের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বিগত দিনের সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।

ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা: অবৈতনিক শিক্ষা ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “নারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়নে একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত।” এই একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই দেশের তৃণমূল পর্যায়ের লক্ষ লক্ষ নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যা আজ বাংলাদেশকে একটি মজবুত সামাজিক ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে।

নতুন দিগন্ত: অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

বেগম খালেদা জিয়ার শুরু করা সেই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে বর্তমান সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই কার্ড সরাসরি নারী বা পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে, যা নারীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে।

সকল স্তরে সক্রিয় অংশগ্রহণের অঙ্গীকার

সরকার কেবল শিক্ষা বা অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে:

  • শিক্ষা: পর্যায়ক্রমে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার লক্ষ্য।

  • অর্থনীতি: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান।

  • রাজনীতি ও প্রশাসন: নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

  • স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা: নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, “একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে হলে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

উপসংহার

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা দেশে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং নারী শিক্ষার নতুন উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *