সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব: সুবিধা পাবেন ৯২ লাখ মানুষ
দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাসিক ভাতার হার আরও ৫০ টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং কমিটি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের ৬৫০ টাকা ভাতা বেড়ে দাঁড়াবে ৭০০ টাকায়।
মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নতুন সিদ্ধান্ত
গত ১৩ জানুয়ারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার হার পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় কার্যকরী কমিটি’ গঠন করে। এই কমিটিকে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) বিবেচনায় নিয়ে বছরে অন্তত একবার ভাতার হার পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন’র সভাপতিত্বে গত ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় এই বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়:
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৬ শতাংশ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ঠিক রাখতে ভাতার হার বাড়ানো প্রয়োজন।
উপকারভোগী ও ব্যয়ের হিসাব
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপকারভোগীর সংখ্যা বর্তমানের মতোই রাখা হবে, শুধুমাত্র মাসিক ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৫৭৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
| কর্মসূচির নাম | বর্তমান উপকারভোগী | অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় অর্থ | মোট প্রয়োজনীয় বাজেট |
| বয়স্ক ভাতা | ৬১ লাখ | ৩৮৮.২০ কোটি টাকা | ৫,১৫৯.৫১ কোটি টাকা |
| বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা | ২৯ লাখ | ১৭৫.০৪ কোটি টাকা | ২,৪৫২.৮৭ কোটি টাকা |
| অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ভাতা | ২.২১ লাখ | ১৩.৩৪ কোটি টাকা | ১৮৭.২৪ কোটি টাকা |
| সর্বমোট | ৯২.২১ লাখ | ৫৭৬.৫৮ কোটি টাকা | ৭,৭৯৯.৬২ কোটি টাকা |
অপরিবর্তিত থাকছে যেসব ভাতা
ওয়ার্কিং কমিটির সুপারিশে নির্দিষ্ট তিনটি খাতে ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ভাতার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
প্রতিবন্ধী ভাতা
মেধাবৃত্তি
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি
অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কমিটির এই সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ সচিবের কাছে জমা দেওয়া হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সম্মতির পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।



