বাজেটের আকার বাড়ছে ১৮ শতাংশ: নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের সুসংবাদ
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেটের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। গত শুক্রবার রাতে অনলাইনে অনুষ্ঠিত সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার সংক্রান্ত সমন্বয় কাউন্সিল এবং বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন
সরকারি কর্মচারীদের জন্য এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশগুলো আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজেট ব্যয়ের একটি বড় অংশ এই নতুন বেতন কাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হবে।
বাজেটের মূল লক্ষ্য ও ব্যয় পরিকল্পনা
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বাজেটের আকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাজেট বাড়ানো হলেও, এবার তা ব্যতিক্রমীভাবে বাড়ানো হচ্ছে। ব্যয়ের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা: সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় এই খাতে বড় বরাদ্দ থাকছে।
সুদের পরিশোধ: ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ মেটাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
সরকারি বেতন ও ভাতা: প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রাথমিক পর্যায়ের বাস্তবায়ন।
উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বৈঠক
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
অর্থ সচিব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিগত অর্থবছরের তুলনা
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল, যা পরবর্তীতে সংশোধন করে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। উন্নয়ন খরচ কমিয়ে মূলত ভর্তুকি ও অনুন্নয়ন ব্যয় মেটানো হয়েছিল। তবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনকল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, আগামী বাজেটের এই বিশাল ব্যয়ের সংস্থান করতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে।



