নিরাপদ বিনিয়োগে ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’: মাসে কত টাকা মুনাফা এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
বাংলাদেশে নিরাপদ এবং নিশ্চিত মুনাফার বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’ দীর্ঘ দিন ধরেই জনপ্রিয়। বিশেষ করে নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি একটি চমৎকার স্কিম। সম্প্রতি এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার, বিনিয়োগ সীমা এবং আবেদনের নিয়মাবলী নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। পাঠকদের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্রের খুঁটিনাটি তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো।
বিনিয়োগ সীমা ও মেয়াদ
পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ নির্দিষ্টভাবে ৫ বছর। একজন বিনিয়োগকারী একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। তবে এটি ৫ বছরের আগে নগদায়ন করলে মুনাফার হার কিছুটা কম হতে পারে।
মুনাফার হিসাব (ট্যাক্স পরবর্তী নিট প্রাপ্তি)
বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মুনাফার হার ভিন্ন হয়। সরকারের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার ওপর ১০% এবং এর কম বিনিয়োগে ৫% ট্যাক্স কাটা হয়। ট্যাক্স কাটার পর প্রতি মাসে যা পাবেন:
১ লাখ টাকায়: ৯৪৪ টাকা।
৫ লাখ টাকায়: ৪,৭২০ টাকা।
৭.৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত: প্রতি লাখে ৯৪৪ টাকা হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।
৭.৫০ লাখের বেশি হলে: পরবর্তী বিনিয়োগের ওপর মুনাফার হার কিছুটা কমে যায়। সেক্ষেত্রে প্রতি লাখে প্রাপ্তি হবে ৮৮৫ টাকা।
১০ লাখ টাকায়: ৮,৮৫০ টাকা।
২০ লাখ টাকায়: ১৭,৭০০ টাকা।
৩০ লাখ টাকায়: ২৬,৫৫০ টাকা।
৪৫ লাখ টাকায়: ৩৯,৮২৫ টাকা।
কারা এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন?
পরিবার সঞ্চয়পত্র মূলত সবার জন্য নয়। এটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য সংরক্ষিত: ১. যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী। ২. ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ। ৩. যে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া
সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও ডিজিটাল। এটি কেনার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: প্রথমেই যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী (Savings) অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
চেকবই: ওই অ্যাকাউন্টের একটি MICR চেক লাগবে (টাকা জমা দেওয়ার জন্য)।
ছবি ও পরিচয়পত্র: গ্রাহক ও নমিনির ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং উভয়ের এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি।
টিন (TIN) সার্টিফিকেট: ১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা স্লিপ বাধ্যতামূলক।
নমিনি যদি নাবালক হয়: ১৮ বছরের নিচে কেউ নমিনি হলে তার জন্মনিবন্ধন এবং একজন প্রত্যয়নকারী বা জামিনদাতার ছবি ও এনআইডি লাগবে।
কোথায় পাওয়া যাবে?
বর্তমানে বাংলাদেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, পোস্ট অফিস এবং সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঞ্চয় ব্যুরো থেকে এই সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরাসরি সঞ্চয়পত্র বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
অটো পেমেন্ট: সঞ্চয়পত্র সক্রিয় হওয়ার ঠিক এক মাস পর থেকে মুনাফার টাকা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
রিনিউ সিস্টেম: মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে চাইলে এটি রিনিউ বা পুনঃবিনিয়োগ করা সম্ভব। তবে মূল টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেলে আর রিনিউ করার সুযোগ থাকে না।
মৃত্যুর পর করণীয়: গ্রাহক মারা গেলে নমিনি আবেদন সাপেক্ষে মুনাফা ও আসল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন অথবা এটি চালিয়ে নিতে পারবেন।
বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, সঞ্চয়পত্র কেনার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করে সঠিক তথ্য দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও মাসিক আয়ের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্র হতে পারে আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী।



