আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

পে ফিক্সেশন ২০২৬: ২০তম গ্রেডে ১১,৬৫০ টাকা বেসিক হলে ১ জুলাই কত হবে? ধাপে ধাপে পূর্ণ হিসাব

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে ফিক্সেশন নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রথম ধাপে বেতন বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের সঙ্গে ১ জুলাইয়ের পূর্ণ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলে প্রকৃত মূল বেতন কত দাঁড়াবে—তা বুঝতে অনেকেই হিসাব মিলিয়ে দেখছেন।

প্রদত্ত পে-ফিক্সেশন শিটের পদ্ধতি অনুসরণ করে ২০তম গ্রেডে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন ১১,৬৫০ টাকা ধরে হিসাব করলে প্রথমে নতুন স্কেলে ফিক্সেশনের জন্য অর্জিত বেতন-পার্থক্য বের করতে হবে। এরপর নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে ওই পার্থক্য যোগ করে প্রযোজ্য উচ্চতর ধাপ নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং ৫০% + ২৫% + ২৫% হারে বাস্তবায়নের হিসাব করতে হবে।

এই পদ্ধতিতে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কর্মচারীর কার্যকর মূল বেতন দাঁড়ায় ১৭,৫২৫ টাকা এবং পরবর্তী দুই ধাপে তা বেড়ে যথাক্রমে ২০,০৮৭.৫০ টাকা ও ২২,৬৫০ টাকা হওয়ার হিসাব পাওয়া যায়।

৩০ জুন মূল বেতন ১১,৬৫০ টাকা

উদাহরণে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ধরা হয়েছে ১১,৬৫০ টাকা।

পুরোনো বেতন স্কেলে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা ধরে প্রথমে অর্জিত বেতন বা পার্থক্য নির্ণয় করা হচ্ছে।

হিসাবটি হলো—

১১,৬৫০ − ৮,২৫০ = ৩,৪০০ টাকা।

অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে ওই কর্মচারী ইতোমধ্যে ৩,৪০০ টাকা অগ্রসর হয়েছেন। পে ফিক্সেশনের পরবর্তী ধাপে এই অর্জিত পার্থক্য নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

নতুন স্কেলে প্রাথমিক ফিক্সেশন ২১ হাজার টাকা

২০তম গ্রেডের নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ১৭,৬০০ টাকা ধরে এর সঙ্গে অর্জিত ৩,৪০০ টাকা যোগ করলে—

১৭,৬০০ + ৩,৪০০ = ২১,০০০ টাকা।

অর্থাৎ গাণিতিকভাবে প্রাথমিক ফিক্সেশন দাঁড়ায় ২১,০০০ টাকা।

কিন্তু এখানেই পে ফিক্সেশন শেষ হচ্ছে না। নতুন বেতন স্কেলে প্রাপ্ত অঙ্কটি নির্ধারিত কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী প্রযোজ্য উচ্চতর ধাপে যেতে হবে। প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী ২১,০০০ টাকার পরবর্তী প্রযোজ্য ধাপ ২১,৮০০ টাকা।

ফলে নতুন স্কেলে কর্মচারীর ফিক্সড মূল বেতন হবে—

২১,৮০০ টাকা।

১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট ৮৫০ টাকা

নতুন স্কেলে ফিক্সেশনের পর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হিসাব করতে হবে।

২১,৮০০ টাকার পরবর্তী বেতন ধাপ ধরা হয়েছে ২২,৬৫০ টাকা।

ফলে ইনক্রিমেন্টের পরিমাণ—

২২,৬৫০ − ২১,৮০০ = ৮৫০ টাকা।

অর্থাৎ ওই কর্মচারীর ১ জুলাইয়ের পূর্ণ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৮৫০ টাকা।

প্রদত্ত পে-ফিক্সেশন পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই ইনক্রিমেন্টের কেবল ৫০ শতাংশ নয়; বরং পুরো ৮৫০ টাকাই প্রথম ধাপের কার্যকর মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে।

মোট বেতন বৃদ্ধি কত?

নতুন স্কেলে ইনক্রিমেন্টের আগের ফিক্সড বেতন ২১,৮০০ টাকা।

পুরোনো মূল বেতন ১১,৬৫০ টাকা।

সুতরাং মূল বেতন বৃদ্ধির পার্থক্য—

২১,৮০০ − ১১,৬৫০ = ১০,১৫০ টাকা।

অর্থাৎ নতুন স্কেলে ফিক্সেশনের কারণে মোট বেতন বৃদ্ধির ভিত্তি হচ্ছে ১০,১৫০ টাকা।

এর ওপরই প্রথমে ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে আরও ২৫ শতাংশ করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের হিসাব হবে।

প্রথম ৫০ শতাংশে কত যোগ হবে?

১০,১৫০ টাকার ৫০ শতাংশ—

১০,১৫০ × ৫০% = ৫,০৭৫ টাকা।

বর্তমান ১১,৬৫০ টাকার সঙ্গে এই ৫,০৭৫ টাকা যোগ করলে—

১১,৬৫০ + ৫,০৭৫ = ১৬,৭২৫ টাকা।

এটি হচ্ছে প্রথম ধাপের ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের পর মূল বেতন—বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ করার আগের অঙ্ক।

পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট যোগে ১ জুলাইয়ের বেতন

এবার ১৬,৭২৫ টাকার সঙ্গে ১ জুলাইয়ের পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট যোগ হবে।

১৬,৭২৫ + ৮৫০ = ১৭,৫৭৫ টাকা।

অতএব, এই গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী—

১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মূল বেতন = ১৭,৫৭৫ টাকা।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন: আগের তৈরি ইনফোগ্রাফিকে ১৭,৫২৫ টাকা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু প্রদত্ত অঙ্কগুলো—১১,৬৫০ টাকা বর্তমান বেতন, ২১,৮০০ টাকা ফিক্সড বেতন এবং ৮৫০ টাকা ইনক্রিমেন্ট—ব্যবহার করলে সঠিক যোগফল ১৭,৫৭৫ টাকা হয়, ১৭,৫২৫ টাকা নয়।

দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ

মোট বেতন বৃদ্ধির ভিত্তি ১০,১৫০ টাকা।

এর ২৫ শতাংশ—

১০,১৫০ × ২৫% = ২,৫৩৭.৫০ টাকা।

প্রথম ধাপের ১৭,৫৭৫ টাকার সঙ্গে যোগ করলে—

১৭,৫৭৫ + ২,৫৩৭.৫০ = ২০,১১২.৫০ টাকা।

অর্থাৎ দ্বিতীয় ধাপে গাণিতিক মূল বেতন দাঁড়ায়—

২০,১১২.৫০ টাকা।

বাস্তবে বেতনের অঙ্কে ভগ্নাংশ কীভাবে সমন্বয় বা রাউন্ডিং করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট পে-ফিক্সেশন বিধি বা সফটওয়্যারের নিয়ম অনুসারে নির্ধারিত হবে।

শেষ ২৫ শতাংশ যোগ হলে

মোট বৃদ্ধির অবশিষ্ট ২৫ শতাংশও ২,৫৩৭.৫০ টাকা।

সুতরাং—

২০,১১২.৫০ + ২,৫৩৭.৫০ = ২২,৬৫০ টাকা।

অর্থাৎ পূর্ণ বাস্তবায়নের পর কর্মচারীর মূল বেতন দাঁড়াবে—

২২,৬৫০ টাকা।

এই অঙ্কটি নতুন স্কেলে ফিক্সেশনের পর ১ জুলাইয়ের পূর্ণ ইনক্রিমেন্টসহ বেতনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

এক নজরে ২০তম গ্রেডের হিসাব

বিষয়হিসাবটাকা
৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন—১১,৬৫০
পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন—৮,২৫০
অর্জিত পার্থক্য১১,৬৫০ − ৮,২৫০৩,৪০০
নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন—১৭,৬০০
প্রাথমিক ফিক্সেশন১৭,৬০০ + ৩,৪০০২১,০০০
পরবর্তী প্রযোজ্য ধাপ—২১,৮০০
ইনক্রিমেন্টের পর পূর্ণ বেতন—২২,৬৫০
১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট২২,৬৫০ − ২১,৮০০৮৫০
মোট বেতন বৃদ্ধি২১,৮০০ − ১১,৬৫০১০,১৫০
প্রথম ৫০%১০,১৫০ × ৫০%৫,০৭৫
৫০% বাস্তবায়নের পর১১,৬৫০ + ৫,০৭৫১৬,৭২৫
পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট যোগে১৬,৭২৫ + ৮৫০১৭,৫৭৫
আরও ২৫%+২,৫৩৭.৫০২০,১১২.৫০
শেষ ২৫%+২,৫৩৭.৫০২২,৬৫০

১১,৬৫০ থেকে ২২,৬৫০ টাকা—কীভাবে?

পুরো প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে দেখলে—

৩০ জুন ২০২৬: ১১,৬৫০ টাকা
⬇️
নতুন স্কেলে ফিক্সেশন: ২১,৮০০ টাকা
⬇️
১ জুলাইয়ের পূর্ণ ইনক্রিমেন্টসহ পূর্ণ স্কেল: ২২,৬৫০ টাকা
⬇️
প্রথম ৫০% বাস্তবায়ন + পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট: ১৭,৫৭৫ টাকা
⬇️
আরও ২৫% বাস্তবায়ন: ২০,১১২.৫০ টাকা
⬇️
শেষ ২৫% বাস্তবায়ন: ২২,৬৫০ টাকা

৫০ শতাংশ মানেই বর্তমান বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানো নয়

এই হিসাব থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো, প্রথম ধাপে ‘৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন’ বলতে ১১,৬৫০ টাকার ওপর সরাসরি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি বোঝানো হচ্ছে না।

প্রথমে নতুন স্কেলে কর্মচারীর বেতন ফিক্স করে ২১,৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এরপর পুরোনো ১১,৬৫০ টাকা এবং নতুন ২১,৮০০ টাকার মধ্যকার ১০,১৫০ টাকা পার্থক্যের ৫০ শতাংশ কার্যকর হচ্ছে।

এরপর ১ জুলাইয়ের পূর্ণ ৮৫০ টাকা ইনক্রিমেন্ট যোগ করা হচ্ছে।

ফলে প্রথম ধাপের সূত্র দাঁড়ায়—

বর্তমান বেতন + (ফিক্সড বেতন − বর্তমান বেতন) × ৫০% + পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট

অর্থাৎ—

১১,৬৫০ + (২১,৮০০ − ১১,৬৫০) × ৫০% + ৮৫০

= ১৭,৫৭৫ টাকা।

শেষ কথা

প্রদত্ত পে-ফিক্সেশন পদ্ধতি অনুসরণ করলে ২০তম গ্রেডে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ১১,৬৫০ টাকা মূল বেতন থাকা কর্মচারীর নতুন স্কেলে প্রাথমিক হিসাব দাঁড়ায় ২১,০০০ টাকা এবং প্রযোজ্য ধাপে ফিক্সড বেতন হয় ২১,৮০০ টাকা। ১ জুলাইয়ের ৮৫০ টাকা পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় পূর্ণ স্কেলের বেতন দাঁড়ায় ২২,৬৫০ টাকা।

এর মধ্যে প্রথম ধাপে বেতন বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ ও পুরো ইনক্রিমেন্ট যোগ করে ১ জুলাই ২০২৬-এর কার্যকর মূল বেতন ১৭,৫৭৫ টাকা হবে। পরবর্তী ২৫ শতাংশ যোগে তা ২০,১১২.৫০ টাকা এবং শেষ ২৫ শতাংশ বাস্তবায়নের পর ২২,৬৫০ টাকা হবে—প্রদত্ত সংখ্যার গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী।

পে ফিক্সেশন

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *