সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাটাবেজ তৈরিতে জোর: ১-২০ গ্রেডের সকলের তথ্য ‘GEMS’-এ অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ
সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর তথ্য ‘সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ বা GEMS (Government Employee Management System)-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক পত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
প্রেক্ষাপট ও আইনি বাধ্যবাধকতা: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (পিএসিসি) অধিশাখার প্রোগ্রাম পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো: রায়হান আখতার স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ২১ অনুযায়ী ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরি সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তথ্য এই সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ: ১. গ্রেড ভুক্তিকরণ: ১ থেকে ২০ গ্রেডের মধ্যে কর্মরত সকল স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে। ২. বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ: সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং তাদের অধীনে থাকা মাঠ পর্যায়ের দপ্তর ও সংস্থাসমূহকে তাদের জনবলের তথ্য GEMS-এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। ৩. নির্দেশিকা ও সহায়তা: তথ্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি অনলাইন ইউজার ম্যানুয়াল (https://gems.gov.bd/userManual) প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে gems@mopa.gov.bd ইমেইলে যোগাযোগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উদ্দেশ্য: আধুনিক ও ডিজিটাল মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা (HRM) নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যাবলী আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে (৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) এই সার্কুলারটি ইস্যু করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


