চিকিৎসা । আর্থিক সহায়তা

সরকারি চিকিৎসা অনুদান ২০২৬ । নিজ ও পরিবারের চিকিৎসার খরচ উঠানোর নিয়ম কি?

সরকারি কর্মচারীগণ পরিবার বা নিজের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করলে তা বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করে অনুদান হিসেবে ৬০ হাজার পর্যন্ত পেয়ে থাকেন – সরকারি চিকিৎসা অনুদান ২০২৬

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যান বোর্ড হতে কেন চিকিৎসা অনুদান দেয়া হয়? সরকারি কর্মচারীদের মাসিক বেতন হতে প্রতিমাসে মূল বেতনের ১% অথবা সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা কর্তন করা হয়। প্রতি বছর জনপ্রতি ১৮০০ টাকা বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে জমা হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সারা দেশ থেকে একত্র হয়। বোর্ড কর্তৃপক্ষ মূলত কর্মচারীদের অর্থই অনুদান হিসেবে চিকিৎসা, মৃতজনিত দাবী বা অর্থ সংকটে পড়লে বিতরণ করে থাকে। এক্ষেত্রে কর্মচারীকে নির্ধারিত ফর্মে ও নিয়মানুযায়ী আবেদন করতে হয়। এখন অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং হার্ড কপি ডাকযোগে প্রেরণ করতে হয়।

প্রতি বছর কয়বার আবেদন করা যায়? সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বছরে একবার মাত্র চিকিৎসা অনুদানের জন্য আবেদন করা যায়। বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী চিকিৎসার ২(দুই) বছরের মধ্যে আবেদন করা যাবে। কর্মকর্তা কর্মচারী নিজে আমৃত্যু এবং পরিবারের সদস্যগণ কর্মকর্তা কর্মচারীর বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত এ অনুদান প্রাপ্য হবেন।

আবেদন কোথায় করতে হবে? আবেদন ফরম www.bkkb.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে/ পূরণকৃত ফরম প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত অফিসে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফরওয়ার্ডিং দিয়ে প্রেরণ করতে হবে। আপনি যদি ঢাকা মহানগরীতে কর্মরত থাকেন তবে মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ১ম ১২ তলা সরকারি অফিস ভবন (১১তলা), সেগুনবাগিচা, ঢাকা বরাবর প্রেরণ করতে হবে। এখন অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদন লিংক: https://eservice.bkkb.gov.bd/general/login

বিভাগ অনুসারে আবেদনপত্র প্রেরণের ঠিকানা কি ভিন্ন হয়? হ্যাঁ। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে: পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, ১ম ১২ তলা সরকারি অফিস ভবন (৩য় তলা) সেগুনবাগিচা, ঢাকা। চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষেত্রে: পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, সরকারি কার্য ভবন-১, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। (ঘ) রাজশাহী বিভাগের ক্ষেত্রে: পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহী। খুলনা বিভাগের ক্ষেত্রে: পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বয়রা, খুলনা। বরিশাল বিভাগের ক্ষেত্রে: পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, কাশিপুর, বরিশাল। সিলেট বিভাগের ক্ষেত্রে: পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, আলমপুর, সিলেট। রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে: পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রংপুর। ময়মনসিংহ বিভাগের ক্ষেত্রে: উপপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ময়মনসিংহ।

সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের আবেদন ফরম ডাউনলোড ২০২৬ / আবেদন ফরম পূরণে বিশেষ নির্দেশিকা । এখন অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং হার্ড কপি ডাকযোগে প্রেরণ করতে হয়।

কর্মচারী জীবিত হলে নিজেই আবেদনকারী হিসেবে গণ্য হবেন। কর্মরত কর্মচারীগণের জন্য ০২ নং ক্রমিকের তথ্য পূরণ করার প্রয়োজন নেই। মৃত কর্মচারীর পক্ষে তার পরিবারের সদস্য আবেদন করলে ০২ নং ক্রমিকের তথ্য পূরণ করতে হবে। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং হার্ড কপি প্রেরণ করতে হয়।

সরকারি চিকিৎসা অনুদান ২০২৩ । নিজ ও পরিবারের চিকিৎসার খরচ উঠানোর নিয়ম দেখুন

সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের আবেদন ফরম PDF FORMAT অথবা DOC FORMAT ডাউনলোড করুন

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড চিকিৎসা অনুদান ২০২৬ । চিকিৎসা ব্যয় উত্তোলনের আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে?

  1. ক্লিনিক/হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকলে মূল ছাড়পত্র;
  2. হাসপাতালের ছাড়পত্র ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঔষধ ক্রয়ের ভাউচার এর মূলকপি;
  3. ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র ও রিপোর্ট এর ছায়ালিপি (ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত);
  4. খরচের হিসাববিবরণী (কর্মচারীর স্বাক্ষরসহ);
  5. জাতীয় বেতনস্কেল এর ভেরিফিকেশন নম্বরসহ বেতননির্ধারণী বিবরণীর সত্যায়িত ফটোকপি (অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক);
  6. পিতা/মাতা বা ভাই/বোনের ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতার প্রত্যয়নপত্র (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র অথবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক)।

স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতগণও কি আবেদন করতে পারবেন?

হ্যাঁ। সরকারি ও তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার সকল গ্রেডে কর্মরত/ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী/ তাদের পরিবারের সদস্য এবং মৃত কর্মচারীর পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ তহবিল হতে সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের জন্য আবেদন ফরম ব্যবহার করা যাবে। মনে রাখবেন আবেদনের সাথে ছাড়পত্র, অরিজিনাল ভাউচারসহ খরচের তালিকা, পে ফিক্সেশনের কপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফরওয়ার্ডিং দিয়ে প্রেরণ করতে হবে। সিজারিয়ান চিকিৎসা ব্যয়ের অনুদানের ক্ষেত্রে ব্যয় যত বেশি হবে অনুদান তত বেশি সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। চিকিৎসা ব্যয়, আবেদন ও কাগজপত্রাদি বিবেচনা করে ১০,০০০ টাকা থেকে ২৫০০০ টাকা পর্যন্ত অনুদান ইতোমধ্যে দপ্তরের কর্মচারী প্রাপ্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড চিকিৎসা অনুদান পুন:নির্ধারণ করেছে। ১৯ আগস্ট ২০২৫ থেকে সাধারণ চিকিৎসা অনুদান সর্বোচ্চ ৪০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০,০০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার জন্য চাকুরি জীবনে এক বা একাধিকবারে সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

নিজ ও পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের সরকারি অনুদান গ্রহণের পদ্ধতি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

10 thoughts on “সরকারি চিকিৎসা অনুদান ২০২৬ । নিজ ও পরিবারের চিকিৎসার খরচ উঠানোর নিয়ম কি?

  • জুনেদ

    আমার স্ত্রী এখন গর্ববতী,,আমি কি আমার স্ত্রীর গর্ববতীকালীন চিকিৎসার টাকা তুলতে পারবো

  • বাচ্চা প্রসব করার পর আবেদন করতে পারবেন।

  • Md. Nur Alam Khan

    1। দেশের বাহিরে বিদেশে চিকিৎসা করালে তার জন্য কি অনুদান পাওয়ার আবেদন করা যাবে?
    2। পরিবারের সদস্য (মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তান) এর একত্রে একই আবেদন ফর্মে অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে?

  • আকলিমা আক্তার

    সরকারি কর্মচারী অবসরে এসে মারা গেছেন। বর্তমানে ওনার স্ত্রী পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। এই স্ত্রী চিকিৎসা ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কি কি সংযুক্তি দিতে হবে

  • ক্লিনিক/হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকলে মূল ছাড়পত্র;
    হাসপাতালের ছাড়পত্র ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঔষধ ক্রয়ের ভাউচার এর মূলকপি;
    ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র ও রিপোর্ট এর ছায়ালিপি (ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত);
    খরচের হিসাববিবরণী (কর্মচারীর স্বাক্ষরসহ);
    জাতীয় বেতনস্কেল এর ভেরিফিকেশন নম্বরসহ বেতননির্ধারণী বিবরণীর সত্যায়িত ফটোকপি (অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক);
    পিতা/মাতা বা ভাই/বোনের ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতার প্রত্যয়নপত্র (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র অথবা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক)।

  • ইভানা আক্তার

    নরমাল ডেলিভারির জন্য কি অনুদান দেয়।আমি একজন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক।

  • আসসালামু আলাইকুম।
    আমি প্রতিনিয়তই আপনার পোস্ট গুলো মনযোগ সহকারে পড়ি।

    আমি আজকে প্রথম কমেন্ট লিখছি যে, আমি খাদ্য অধিদপ্তরের চাকুরী করে প্রায় ১৫ বছর ধরে।
    ২০২৫ সালে নভেম্বরের আমি কিছু দিন অসুস্থত ছিলাম। তারপর চিকিৎসা ঔষধ বাবদ আমার ১৯ হাজার সামথিং খরচ হয়েছে । এবং আমি অফিসের মাধ্যমে প্রথম বারের মতো আবেদন করি ডিসেম্ভরের শুরুতে। যাইহোক, আবেদন গৃহীত হয়েছে এই মেসেজ আমি পায়।
    আমার প্রশ্ন:
    ১। আমার টাকা এখনো আসেনি।
    ২। মেসেজ পাওয়ার পর টাকা আসতে কত দিন সময় লাগে ?
    ৩। যেহেতু চাকুরী জীবনে প্রথম ২০২৫ সালে আবেদন করেছি এবং যদি সেই অর্থ পায় তাহলে কি ২০২৬ সালে ২য় আবেদন করার সুযোগ আছে ?
    বা আমার পরিবারের সদস্যদের জন্য আবেদন করতে পারবো ? ***

    প্রশ্নর উত্তর দেওয়ার ন্যায়ে অগ্রিম ধন্যবাদ

  • ১। অপেক্ষা করুন।
    ২। ৩-৬ মাস সময় লাগে কারণ প্রতি ৩ মাস পর পর সভা হয়। অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা যায় কি অবস্থায় আছে।
    ৩। প্রতি বছর একবার আবেদন করা যায়।
    ৪। পরিবারের সদস্যদের জন্যও আবেদন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *