সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ । আজ সেহরি কয়টা পর্যন্ত জানেন কি?

আজ বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ (২২ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি)। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

আজকের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

  • সেহরির শেষ সময়: ভোর ৪:৫৫ মিনিট

  • ফজর শুরু: ভোর ৪:৫৭ মিনিট

  • ইফতারের সময়: সন্ধ্যা ৬:০৮ মিনিট


বিভাগীয় শহরের সময়ের পার্থক্য

ঢাকার সময়ের সাথে কিছু সময়ের কম-বেশি করে অন্যান্য বিভাগের সময় নির্ধারিত হয়: | বিভাগ | সেহরি (ঢাকার সাথে) | ইফতার (ঢাকার সাথে) | | :— | :— | :— | | চট্টগ্রাম | -৫ মিনিট | -৬ মিনিট | | সিলেট | -৬ মিনিট | -৫ মিনিট | | রাজশাহী | +৭ মিনিট | +৫ মিনিট | | খুলনা | +৩ মিনিট | +৪ মিনিট | | বরিশাল | +১ মিনিট | +১ মিনিট | | রংপুর | +৫ মিনিট | +৫ মিনিট | | ময়মনসিংহ | -১ মিনিট | -১ মিনিট |

সতর্কতা: সতর্কতামূলকভাবে সেহরির শেষ সময়ের অন্তত ৫ মিনিট আগে খাবার শেষ করা এবং ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা উত্তম।

ইফতার ও সেহরি নিয়ে হাদিসে কি আছে?

ইফতার এবং সেহরির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হাদিস রয়েছে। নিচে প্রধান কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো:

১. সেহরির ফজিলত ও বরকত

সেহরি খাওয়া শুধুমাত্র পেট ভরার জন্য নয়, এটি একটি ইবাদত।

  • বরকত লাভ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।” (সহিহ বুখারি: ১৯২৩)

  • পার্থক্যকারী ইবাদত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও নাসারা) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।” (সহিহ মুসলিম: ১০৯৬)

২. ইফতারের ফজিলত ও সময়

ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নাত এবং এতে কল্যাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

  • দ্রুত ইফতার করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।” (সহিহ বুখারি: ১৯৫৭)

  • ইফতারের সময় দোয়া কবুল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ১. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, ২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া এবং ৩. মজলুমের (অত্যাচারিত ব্যক্তির) দোয়া।” (তিরমিজি: ২৫২৬)

৩. কিসের মাধ্যমে ইফতার করবেন?

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুনির্দিষ্ট কিছু খাবার দিয়ে ইফতার করাকে পছন্দ করতেন।

  • খেজুর ও পানি: “তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। যদি খেজুর না পায়, তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ পানি পবিত্রকারী।” (আবু দাউদ: ২৩৫৫)

৪. অন্যকে ইফতার করানোর সওয়াব

অন্যকে ইফতার করালে নিজের রোজার সওয়াব না কমিয়েই অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়া যায়।

  • রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।” (তিরমিজি: ৮০৭)


ইফতারের সময় নবীজি (সা.)-এর একটি দোআ:

ইফতারের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পাঠ করতেন:

“জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।” (অর্থাৎ: পিপাসা মিটে গেছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কারও নির্ধারিত হয়েছে।) — আবু দাউদ: ২৩৫৭।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *