৯ম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ : ছুটি নগদায়ন, পেনশন ও আনুতোষিকের নতুন হিসাব যেভাবে বদলেছে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল আলোচিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬–এর গেজেটে শুধু নতুন বেতন কাঠামো নয়, অবসরকালীন সুবিধা, ছুটি নগদায়ন, পেনশন, আনুতোষিক এবং স্বল্প চাকরিকালের পেনশন নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের সংশ্লিষ্ট পাতাগুলো বিশ্লেষণ করলে অবসরপ্রাপ্ত ও অবসরে যেতে চলা কর্মচারীদের জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গেজেটের বিধান অনুযায়ী, অবসরকালে অর্জিত ছুটি নগদায়ন, অবসর-উত্তর ছুটি বা PRL, নেট পেনশন পুনর্নির্ধারণ, আনুতোষিকের হার এবং চাকরিকালভিত্তিক গ্রস পেনশনের হার নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের বিধান বহাল
গেজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো ছুটি নগদায়ন। এতে বলা হয়েছে, অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যাবে।
অর্থাৎ, অবসর গ্রহণের সময় প্রাপ্য ছুটি থাকলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূলবেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে শুধু ছুটির হিসাব জানলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অবসরের সময়কার মূল বেতন এবং প্রাপ্য ছুটির পরিমাণ বিবেচনায় নিতে হবে।
PRL ও ছুটি নগদায়নে ‘কনভার্সন’ বিধান
গেজেটে অবসর-উত্তর ছুটি বা PRL এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২ দিনের অর্জিত বেতনের ছুটিকে ১ দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর (Conversion) করা যেতে পারে। ফলে অবসরকালীন ছুটি হিসাবের ক্ষেত্রে কর্মচারীর মোট অর্জিত ছুটি এবং সংশ্লিষ্ট কনভার্সন বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অর্থাৎ, অবসরের আগে ছুটির হিসাব করার সময় শুধু মোট ছুটির সংখ্যা দেখলেই হবে না; কোন ছুটি কোন হারে রূপান্তরযোগ্য, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
পেনশনেও বড় পরিবর্তন: নেট পেনশন বাড়ানোর নতুন হার
গেজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অবসরগ্রহণকারী বিদ্যমান পেনশনভোগীদের নেট পেনশন নির্ধারণ।
এক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নেট পেনশনকে ভিত্তি ধরে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন হারে নেট পেনশন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
গেজেটে প্রদর্শিত কাঠামোটি হলো—
| ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নেট পেনশন | নেট পেনশন বৃদ্ধির হার | সর্বনিম্ন নেট পেনশন | সর্বোচ্চ নেট পেনশন |
|---|---|---|---|
| সর্বনিম্ন–৯,০০০ টাকা | ১০০% | ১০,০০০ টাকা | ১৮,০০০ টাকা |
| ৯,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% | ১৮,০০১ টাকা | ৩৫,০০০ টাকা |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% | ৩৫,০০১ টাকা | ৪৯,০০০ টাকা |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% | ৪৯,০০১ টাকা | ৬২,০০০ টাকা |
| ৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব | ৫৫% | ৬২,০০১ টাকা | ৭০,২০০ টাকা |
এখানে দেখা যাচ্ছে, নিম্ন নেট পেনশনধারীদের জন্য বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন শ্রেণিতে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হলেও উচ্চ নেট পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে হার কমে ৫৫ শতাংশে এসেছে।
তবে এটি সরাসরি সবার পেনশন দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার অর্থ নয়। কারণ গেজেটে একই সঙ্গে প্রতিটি স্তরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
৭০,২০০ টাকার সীমা: ভবিষ্যৎ বার্ষিক বৃদ্ধিতে বিশেষ বিধান
গেজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো—যেসব বিদ্যমান পেনশনভোগী ইতোমধ্যে ৭০,২০০ টাকার বেশি নেট পেনশন উত্তোলন করছেন, তারা পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে বিশেষ সীমাবদ্ধতার আওতায় থাকবেন।
গেজেটে বলা হয়েছে, এ ধরনের পেনশনভোগী ১ জুলাই ২০২৭-এর পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধির পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান নেট পেনশনই পাবেন।
ফলে নতুন পেনশন কাঠামো বিশ্লেষণের সময় শুধু ২০২৬ সালের পুনর্নির্ধারিত পেনশন দেখলেই হবে না; ভবিষ্যৎ ইনক্রিমেন্টের বিধানও বিবেচনায় নিতে হবে।
আনুতোষিকের হার পরিবর্তন হচ্ছে না
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি।
গেজেটে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ছক অনুযায়ী আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে।
চাকরিকাল অনুযায়ী হার—
| পেনশনযোগ্য চাকরিকাল | আনুতোষিকের হার |
|---|---|
| ৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১০ বছরের কম | প্রতি টাকায় ২৬৫ টাকা |
| ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১৫ বছরের কম | প্রতি টাকায় ২৬০ টাকা |
| ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২০ বছরের কম | প্রতি টাকায় ২৪৫ টাকা |
| ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব | প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা |
অর্থাৎ, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও আনুতোষিকের এই হারগুলো গেজেট অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়নি।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—আনুতোষিকের হার এবং পেনশনের হার এক বিষয় নয়। পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে চাকরিকাল ও সংশ্লিষ্ট গ্রস পেনশন হার ব্যবহৃত হবে, আর আনুতোষিক নির্ধারণে আলাদা হার প্রযোজ্য হবে।
স্বল্প চাকরিকালেও পেনশনের বিধান
গেজেটে ৫ বছর থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরিকালের জন্য গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার দেওয়া হয়েছে।
চাকরিকাল ৫ বছর হলে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ২১ শতাংশ, ৬ বছরে ২৪ শতাংশ, ৭ বছরে ২৭ শতাংশ, ৮ বছরে ৩০ শতাংশ এবং ৯ বছরে ৩৩ শতাংশ।
এরপর চাকরিকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হারও ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে।
| পেনশনযোগ্য চাকরিকাল | গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার |
|---|---|
| ৫ বছর | ২১% |
| ৬ বছর | ২৪% |
| ৭ বছর | ২৭% |
| ৮ বছর | ৩০% |
| ৯ বছর | ৩৩% |
| ১০ বছর | ৩৬% |
| ১১ বছর | ৩৯% |
| ১২ বছর | ৪২% |
| ১৩ বছর | ৪৫% |
| ১৪ বছর | ৫১% |
| ১৫ বছর | ৫৪% |
| ১৬ বছর | ৫৭% |
| ১৭ বছর | ৬০% |
| ১৮ বছর | ৬৬% |
| ১৯ বছর | ৬৯% |
| ২০ বছর | ৭২% |
| ২১ বছর | ৭৫% |
| ২২ বছর | ৭৯% |
| ২৩ বছর | ৮৩% |
| ২৪ বছর | ৮৭% |
| ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব | ৯০% |
এই ছক থেকে স্পষ্ট যে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ২৫ বছর বা তার বেশি হলে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশে পৌঁছাবে।
তবে এই শতাংশকে সরাসরি মাসিক নেট পেনশন হিসেবে গণনা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পেনশন নির্ধারণের ভিত্তি, মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য হিসাব আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
৫ বছরের আগে চাকরি শেষ হলে বিশেষ সুবিধার প্রশ্ন
গেজেটে স্বল্প চাকরিকালের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিও উল্লেখ করা হয়েছে।
চাকরি পেনশনযোগ্য হওয়ার আগে কোনো কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে বা মৃত্যুবরণ করলে, নির্দিষ্ট বিধি ও শর্তসাপেক্ষে কর্মচারী বা তার পরিবারকে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রয়েছে।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি, চাকরিকাল এবং মৃত্যুর বা অক্ষমতার কারণসহ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।
অর্থাৎ, একজন কর্মচারীর স্বাভাবিক অবসর এবং চাকরিকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষমতা বা মৃত্যুর ঘটনা—দুটি ক্ষেত্রে অবসরকালীন সুবিধার হিসাব একই হবে না।
বিধবা স্ত্রী/বিপত্নীক স্বামীর আজীবন পেনশন
গেজেটে পেনশনারের বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীর আজীবন পেনশন প্রাপ্যতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী নির্দিষ্ট শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পেতে পারেন। তবে পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রে বিধান প্রযোজ্য হবে।
গেজেটে আরও উল্লেখ রয়েছে, পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন ভোগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসংক্রান্ত কিছু বিধান প্রযোজ্য হবে। ফলে পেনশনারের মৃত্যুর পর পারিবারিক পেনশন নির্ধারণের সময় উত্তরাধিকারীর বৈবাহিক অবস্থা ও বয়সসহ সংশ্লিষ্ট শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
২৫ বছরের বেশি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ
নতুন গেজেটের পেনশন কাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো দীর্ঘ চাকরিকালের ক্ষেত্রে পেনশন নির্ধারণের হার ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাওয়া।
বিশেষ করে—
২০ বছর → ৭২%
২১ বছর → ৭৫%
২২ বছর → ৭৯%
২৩ বছর → ৮৩%
২৪ বছর → ৮৭%
২৫ বছর বা তার বেশি → ৯০%
অর্থাৎ, ২৫ বছর বা তার বেশি পেনশনযোগ্য চাকরিকাল সম্পন্নকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
এটি অবসর-হিসাবের ক্ষেত্রে চাকরিকালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদানে পরিণত করেছে।
শুধু নতুন বেতন নয়, অবসরকালীন হিসাবেও প্রভাব
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সাধারণত মূল বেতন ও মাসিক বেতন কত বাড়বে—এই আলোচনাই বেশি হচ্ছে। কিন্তু প্রকাশিত গেজেটের সংশ্লিষ্ট অংশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর প্রভাব অবসরকালীন সুবিধার হিসাবেও পড়ছে।
একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে অবসরকালীন মোট সুবিধা নির্ধারণে অন্তত কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে—
১. অবসরের সময়কার মূল বেতন
২. পেনশনযোগ্য চাকরিকাল
৩. অর্জিত ছুটির পরিমাণ
৪. PRL-এর হিসাব
৫. ছুটি নগদায়নের পরিমাণ
৬. গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার
৭. আনুতোষিকের প্রযোজ্য হার
৮. পেনশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পুনর্নির্ধারণের বিধান।
তাই শুধু নতুন পে-স্কেলের বেতন টেবিল দেখে অবসরকালীন প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: ‘গ্রস’ ও ‘নেট’ পেনশন এক নয়
গেজেটের ছকগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন গ্রস পেনশন এবং নেট পেনশন নিয়ে।
একটি ছকে চাকরিকালের ভিত্তিতে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যমান পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের নেট পেনশনকে ভিত্তি করে নতুন নেট পেনশন বৃদ্ধির হার দেওয়া হয়েছে।
দুটি ছককে একসঙ্গে মিশিয়ে হিসাব করলে ভুল ফল আসতে পারে।
অর্থাৎ—
চাকরিকালভিত্তিক ৯০% = সরাসরি ৯০% নেট পেনশন নয়।
আবার,
নেট পেনশন ১০০% বৃদ্ধি = প্রত্যেক পেনশনভোগীর পেনশন দ্বিগুণ হবে—এমন সরল অর্থও নয়।
কারণ সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবসরপ্রত্যাশীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?
নতুন গেজেটের আলোকে অবসরপ্রত্যাশী সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে সঠিকভাবে চাকরিকাল, শেষ মূল বেতন, অর্জিত ছুটি ও পেনশনযোগ্যতার হিসাব করা।
বিশেষ করে যারা অবসরের কাছাকাছি রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ছুটি নগদায়নের ১৮ মাসের সুবিধা এবং PRL-এর হিসাব আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চাকরিকাল কোন শ্রেণিতে পড়ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৩ বছর থেকে ১৪ বছর, ১৭ বছর থেকে ১৮ বছর কিংবা ২৪ বছর থেকে ২৫ বছরে পৌঁছালে পেনশন নির্ধারণের হার পরিবর্তিত হচ্ছে।
শেষ কথা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর গেজেটের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো দেখাচ্ছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের বিষয় নয়; অবসর, পেনশন, আনুতোষিক, PRL ও ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
বিশেষ করে ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন, ৩০ জুন ২০২৬-এর নেট পেনশনকে ভিত্তি করে নতুন পেনশন নির্ধারণ, সর্বোচ্চ ৭০,২০০ টাকার নেট পেনশন সীমা, চাকরিকালভিত্তিক ২১% থেকে ৯০% পর্যন্ত গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার এবং আনুতোষিকের বিদ্যমান হার বহাল রাখা—এসব বিধান অবসরকালীন আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত পেনশন, আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়নের অর্থ বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর শেষ মূল বেতন, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, অর্জিত ছুটি এবং প্রযোজ্য বিধান একসঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে। তাই গেজেটের ছক থেকে শুধু একটি শতাংশ নিয়ে সরাসরি ব্যক্তিগত প্রাপ্য অর্থ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
সরকারি কর্মচারীগণের অবসরকালীন সুবিধাদি প্রাপ্যতা নির্ধারণ পুনর্নির্ধারণ



