পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

৯ম পে-স্কেলের নতুন স্পষ্টীকরণ: ৩০ জুনের মূল বেতনে কোন কোন ভাতা নির্ধারিত হবে, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা নিয়ে কী জানা গেল?

সরকারি কর্মচারীদের ৯ম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতা কোন বেতনের ভিত্তিতে দেওয়া হবে, তা নিয়ে স্পষ্টীকরণ জারি করেছে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে এই স্পষ্টীকরণের আওতায় শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা পড়বে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের প্রচলিত যেসব ভাতা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত এবং মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে নির্ধারিত, সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে। কিন্তু শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রে এই নির্দেশনার প্রয়োগ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট পে-স্কেলের গেজেটের বিধানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে?

অর্থ বিভাগের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এর স্মারক নম্বর ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৫৫.০১০.১৩ (অংশ-১)-১১৮। প্রজ্ঞাপনটির মূল উদ্দেশ্য হলো, নতুন বেতন আদেশের আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতা আপাতত কোন বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করা হবে, তা স্পষ্ট করা।

প্রজ্ঞাপনের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভাতাগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত ও প্রদেয় হবে।

এখানে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

  • নির্দেশনাটি সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য।

  • ভাতাটি চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত হতে হবে।

  • ভাতাটি মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে প্রচলিত হতে হবে।

অর্থাৎ, সব ধরনের ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় চলে আসবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। ভাতার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট বেতন আদেশের বিধান মিলিয়ে দেখতে হবে।

শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা কি এই প্রজ্ঞাপনের আওতায়?

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা কি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে?

এ প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রজ্ঞাপনের ভাষা এবং ৯ম পে-স্কেলের গেজেট—দুটি বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রথমত, নতুন প্রজ্ঞাপনে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এখানে বলা হয়েছে, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতার কথা।

দ্বিতীয়ত, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার বিষয়ে ৯ম পে-স্কেলের গেজেটে বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই ভাতাকে নতুন স্পষ্টীকরণের আওতাভুক্ত ধরে নেওয়ার আগে গেজেটের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং ভাতাটি কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা যাচাই করা জরুরি।

তৃতীয়ত, শুধু মূল বেতনের শতাংশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে কোনো ভাতাকে এই প্রজ্ঞাপনের আওতাভুক্ত বলা যাবে না। ভাতাটি নতুন বেতন আদেশের আওতাভুক্ত কি না, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

এ কারণে বর্তমানে পাওয়া প্রজ্ঞাপনের ভাষা থেকে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা অবশ্যই ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে দিতে হবে—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে, ভাতাটি এই নির্দেশনার বাইরে—এ কথাও চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা অথবা প্রাসঙ্গিক গেজেটের ধারার সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক

ধরা যাক, একজন সরকারি কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২৫ হাজার টাকা মূল বেতন পেতেন। পরবর্তী সময়ে নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন বেড়ে ৩৫ হাজার টাকা হলো।

এখন ওই কর্মচারীর কোনো প্রচলিত ভাতা যদি নতুন বেতন আদেশের আওতাবহির্ভূত হয় এবং মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাহলে নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেই ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি হবে ৩০ জুনের ২৫ হাজার টাকা মূল বেতন।

তবে এই উদাহরণটি কেবল প্রজ্ঞাপনের আওতাভুক্ত ভাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রেও একই হিসাব প্রযোজ্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিধান যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা যাবে না।

সরকারি কর্মচারীদের এখন কী করণীয়?

1. নিজের দপ্তরে প্রচলিত ভাতাটি চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাভুক্ত কি না, তা যাচাই করুন।

2. ভাতাটি মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় কি না, তা নিশ্চিত হোন।

3. শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রে ৯ম পে-স্কেলের গেজেটের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং অর্থ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপন একসঙ্গে পর্যালোচনা করুন।

4. ভাতা নির্ধারণ নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে নিজ দপ্তরের হিসাব শাখা, ডিডিও বা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।

5. অর্থ বিভাগ থেকে পরবর্তী কোনো স্পষ্টীকরণ জারি হলে সেটি অনুসরণ করুন।

শেষ কথা

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের মধ্যে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনটি সরকারি কর্মচারীদের প্রচলিত কিছু ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি স্পষ্ট করেছে। এর মাধ্যমে নতুন বেতন আদেশের আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক ভাতার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনকে ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা এই নির্দেশনার আওতায় পড়বে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। প্রজ্ঞাপনে ভাতাটির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় এবং পে-স্কেলের গেজেটে এ বিষয়ে বিধান থাকার কথা বিবেচনায় নিয়ে, অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া একে নিশ্চিতভাবে অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া—কোনোটিই সমীচীন হবে না।

সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ করা প্রয়োজন, যাতে বেতন ও ভাতা নির্ধারণে দপ্তরভেদে ভিন্ন ব্যাখ্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা তৈরি না হয়।

সূত্র: অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়; বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ গেজেট।

ভাতা নিয়ে প্রজ্ঞাপন

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *