সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য খুশির খবর: বেতন বাড়ছে আড়াই গুণ পর্যন্ত, সর্বনিম্ন ২০ হাজার করার সুপারিশ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জমা হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সুপারিশমালা সম্বলিত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেবেন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। প্রতিবেদন জমাদানকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন গড়ে প্রায় ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সুসংবাদ রয়েছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন: বর্তমানের সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ – ২০,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত ৭৮,০০০ টাকা মূল বেতন বাড়িয়ে ১,২০,০০০ থেকে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ এসেছে।
বেতন বৃদ্ধির হার: নিম্নস্তরের (২০তম গ্রেড) কর্মচারীদের জন্য বেতন প্রায় ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। উপরের স্তরের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম (প্রায় ৮০ শতাংশ) হতে পারে।
পেনশনভোগীদের সুখবর: যারা বর্তমানে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ৭৫ ঊর্ধ্ব পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ১০,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন সময়সীমা: নতুন এই কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে (আগামী অর্থবছরের শুরু) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটে বরাদ্দ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।
বিশেষ ভাতা ও পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ
শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের জন্য বিশেষ পেশাগত ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ মহার্ঘ ভাতার হার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত করার সুপারিশ রয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীরা খুশি হবেন এমন বাস্তবসম্মত সুপারিশই রাখা হয়েছে প্রতিবেদনে। বাজারদর এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে এটি তৈরি করা হয়েছে।”

বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা ও যাতায়াত ভাতা কত প্রস্তাব হয়েছে?
প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৫-এর অধীনে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা ও যাতায়াত ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র ও কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পে-কমিশনের কাছে জমা দেওয়া প্রধান প্রস্তাবনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বাড়ি ভাড়া ভাতা: বর্তমানের মূল বেতনের ৪০-৪৫ শতাংশের পরিবর্তে এটি বাড়িয়ে মূল বেতনের ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বা ফিক্সড বাড়ি ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা: বর্তমানে মাসিক ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এটি ৫,০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে মাসিক ২,৫০০ টাকা অথবা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের দাবিও এসেছে।
টিফিন ভাতা: বর্তমানের মাসিক ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এটি ৩,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
যাতায়াত ভাতা: বর্তমানের ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এটিও ৩,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, পে-কমিশন এসব প্রস্তাবনা ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছে, যা দ্রুতই সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।



