বিসিবির নতুন সিদ্ধান্ত ২০২৬ । এক নজরে বেতন ও ম্যাচ ফি যা বৃদ্ধি করিল ক্রিকেট বোর্ড?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির দ্বিতীয় জরুরি সভায় ক্রিকেটারদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছেন নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবাল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন এবং ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
গতকাল বুধবার বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় কার্যনির্বাহী পদের দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বিস্তারিত তথ্যাদি তুলে ধরেন।
বিসিবির নতুন সিদ্ধান্ত: এক নজরে বেতন ও ম্যাচ ফি
সভায় মূলত প্রথম শ্রেণির পুরুষ ক্রিকেটার এবং নারী ক্রিকেটারদের আর্থিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। তামিম ইকবালের ভাষ্যমতে, গত কয়েক বছর বেতন কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন না আসায় ক্রিকেটাররা আর্থিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছিলেন।
১. নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও বেতন বৃদ্ধি
নারী ক্রিকেটের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তামিম ইকবাল জানান, নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।
টি-টুয়েন্টি: ১০ হাজার টাকা (আগে ছিল ৫ হাজার)।
ওডিআই: ১৫ হাজার টাকা (আগে ছিল ৫ হাজার)।
টেস্ট (চার দিনের ম্যাচ): ২০ হাজার টাকা (আগে ছিল ৮ হাজার)।
মাসিক বেতন: ঘরোয়া চুক্তিতে থাকা ৩৫ জন নারী ক্রিকেটারের মাসিক বেতন ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
২. পুরুষ ক্রিকেটারদের (প্রথম শ্রেণি) বেতন ও ম্যাচ ফি
জাতীয় লিগের (NCL) ক্রিকেটারদের জীবনমান উন্নয়নে তিনটি ক্যাটাগরিতে বেতন বাড়ানো হয়েছে:
এ ক্যাটাগরি: ৬৫ হাজার টাকা (আগে ছিল ৩৫ হাজার)।
বি ক্যাটাগরি: ৫০ হাজার টাকা (আগে ছিল ৩০ হাজার)।
সি ক্যাটাগরি: ৪০ হাজার টাকা (আগে ছিল ২৫ হাজার)।
ম্যাচ ফি: জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
কার্যনির্বাহী পদের দায়িত্ব বণ্টন
অ্যাডহক কমিটির এই সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল নিজে ‘ওয়ার্কিং কমিটি’ ও ‘ফ্যাসিলিটিজ’ বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে এভাবে:
“গত তিন-চার বছরে ক্রিকেটারদের বেতন বা সুযোগ-সুবিধা প্রায় কিছুই বাড়েনি। আমার কাছে এটি খুবই অপর্যাপ্ত মনে হয়েছে। আমরা চাই ক্রিকেটাররা যেন মাঠের খেলায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন, তাই এই সমন্বয় করা হয়েছে।” — তামিম ইকবাল, সভাপতি, বিসিবি অ্যাডহক কমিটি।
বিসিবির এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটার এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগের অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।



