৯ম পে-স্কেলের দাবিতে উত্তপ্ত রাজপথ: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি কর্মচারীদের টানা কর্মসূচি
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘সরকারি কর্মচারী আদায় ঐক্য পরিষদ’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে রাজধানী অভিমুখে ‘ভূখা মিছিলের’ মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপ: কর্মস্থলে ২ ঘণ্টার অবস্থান ও বিক্ষোভ
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) থেকে ০৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) পর্যন্ত টানা তিন দিন সারা দেশের সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ দপ্তরের সামনে অবস্থান গ্রহণ করবেন।
সময়: প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে বেলা ১১:০০ টা পর্যন্ত।
কর্মসূচি: ২ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ।
বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে কর্মচারীরা তাদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সংগতিপূর্ণ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানাবেন।
আল্টিমেটাম: দাবি না মানলে ‘ভূখা মিছিল’
ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে।
আগামী ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় সারা দেশের সরকারি কর্মচারীরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হবেন। সেখান থেকে তারা রাষ্ট্রীয় বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে একটি বিশাল ‘ভূখা মিছিল’ বের করার ঘোষণা দিয়েছেন।
“নিত্যপণ্যের লাগামহীন বাজারে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।” — ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। ইনক্রিমেন্ট এবং বিশেষ ভাতা দেওয়া হলেও তা জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ৯ম পে-স্কেলকে তারা এখন সময়ের দাবি হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনিক প্রভাব: সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন দিন সরকারি অফিসগুলোতে দাপ্তরিক কাজে কিছুটা ধীরগতি বা অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মবিরতি কর্মসূচী কি আসতে পারে?
সাধারণত এ ধরনের আন্দোলনে কর্মবিরতি একটি চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারি কর্মচারী আদায় ঐক্য পরিষদের ঘোষিত বর্তমান কর্মসূচিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা ধাপে ধাপে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াচ্ছে।
আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে কর্মবিরতি আসার সম্ভাবনা ও পরিস্থিতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বর্তমান অবস্থান বনাম পূর্ণ কর্মবিরতি
বর্তমানে ১-৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ২ ঘণ্টার যে কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে, সেটি মূলত আংশিক কর্মবিরতি। যেহেতু সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত (অফিস শুরুর প্রধান সময়) তারা দপ্তরের সামনে অবস্থান করবেন, তাই এই সময়ে দাপ্তরিক কাজ কার্যত বন্ধ থাকবে।
২. কর্মবিরতি আসার সম্ভাবনা কখন?
যদি ৬ ফেব্রুয়ারির ‘ভূখা মিছিল’ কর্মসূচির পরেও সরকারের পক্ষ থেকে ৯ম পে-স্কেল নিয়ে কোনো ইতিবাচক ঘোষণা বা আশ্বাস না আসে, তবে সংগঠনটি পরবর্তী ধাপে নিচের কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করতে পারে:
পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখা।
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অফিসে না ফেরা।
কলম বিরতি (Pen-down strike): অফিসে উপস্থিত থেকেও কোনো ফাইলে স্বাক্ষর না করা বা দাপ্তরিক কাজ না করা।
৩. আন্দোলনের সম্ভাব্য গতিপথ
| ধাপ | কর্মসূচির ধরন | লক্ষ্য |
| চলমান | ২ ঘণ্টার অবস্থান (১-৩ ফেব্রুয়ারি) | সরকারকে সতর্কবার্তা দেওয়া এবং জনমত তৈরি। |
| পরবর্তী | ভূখা মিছিল (৬ ফেব্রুয়ারি) | নীতিনির্ধারকদের সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ ও শক্তির মহড়া। |
| চূড়ান্ত (সম্ভাব্য) | অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি | প্রশাসনকে অচল করে দাবি আদায়ে বাধ্য করা। |
সারসংক্ষেপ
ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা এখনই সরাসরি “পূর্ণ কর্মবিরতি” দিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়াতে চাচ্ছেন না। তবে ৬ ফেব্রুয়ারির আল্টিমেটাম পার হয়ে গেলে এবং সরকার নমনীয় না হলে, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সারা দেশে পূর্নাঙ্গ কর্মবিরতি বা ধর্মঘটের ঘোষণা আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।



