ই-বুক I এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল

স্মার্ট দাপ্তরিক যোগাযোগ ২০২৬ । সরকারি কার্যনিষ্পত্তিতে আধুনিক ফরম্যাটের প্রয়োগ?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং আধুনিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের পত্রের ফরম্যাট ও নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে । সরকারি নথি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগে গতিশীলতা আনতেই এই উদ্যোগ। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিভিন্ন নমুনা ও ফরম্যাট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুনির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

দাপ্তরিক যোগাযোগের বৈচিত্র্য ও ধরন

সরকারি কার্যক্রমে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি কাঠামো বা ফরম্যাট অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • সরকারি পত্র ও অফিস স্মারক: সাধারণ দাপ্তরিক আদেশ বা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ‘সরকারি পত্র’ এবং ‘অফিস স্মারক’ ব্যবহৃত হয় বিশেষ করে ‘সচিবালয় নির্দেশমালা ২০১৪’ হালনাগাদ করার জন্য বর্তমানে সকল মন্ত্রণালয় থেকে মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে

  • আধা-সরকারি পত্র (DO Letter): এটি মূলত ব্যক্তিগত পর্যায়ে দাপ্তরিক প্রয়োজনে লেখা হয় যেমন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রশাসকদের কাছে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ ধরনের পত্রের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে

  • অনানুষ্ঠানিক নোট (UO Note): অভ্যন্তরীণ পরামর্শ বা যোগাযোগের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়, যা মূলত নোটশিটেই প্রেরণ করা হয়

  • প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র: সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, যেমন—চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংশোধন বা সরকারি কর্মচারীদের মৃত্যুতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ পুনঃনির্ধারণের মতো বিষয়গুলো প্রজ্ঞাপন বা পরিপত্রের মাধ্যমে জারি করা হয়

প্রযুক্তির সমন্বয় ও ডিজিটাল উপস্থিতি

নথিগুলোতে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি সরকারি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট অফিসের ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস এবং কর্মকর্তাদের ই-মেইলপরিচিতি নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য সিস্টেম এনালিস্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে

উল্লেখযোগ্য কিছু সিদ্ধান্ত

সম্প্রতি জারিকৃত কিছু নমুনা পত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যের প্রতিফলন পাওয়া যায়:

  • আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি: চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৮ লক্ষ টাকা করা হয়েছে

  • কোটা সংস্কার: ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে

  • উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ: অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ‘এডওয়ার্ড স্কলারশিপ’ এর আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের মাস্টার্স কোর্সে আবেদনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে

প্রমিতকরণের নিয়মাবলি

সকল ধরনের পত্রে তারিখ লিখিবার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে—উপরে বাংলা সন এবং নিচে খ্রিষ্টীয় সন লিখতে হবে এছাড়া ব্যক্তিগত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘প্রিয় মহোদয়’ এবং ‘আপনার বিশ্বস্ত’ এর মতো সৌজন্যমূলক সম্বোধন ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে এই প্রমিত ফরম্যাটগুলো ব্যবহারের ফলে সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস পাবে এবং দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চিঠিপত্রের ফরম্যাট আপডেট ২০২৬

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *