নৈমিত্তিক । অর্জিত । মাতৃত্বকালীন

সরকারি চাকরিতে ছুটির বিধান ২০২৬ । নৈমিত্তিক, প্রসূতি ও বিনোদন ভাতার আদ্যোপান্ত জেনে নিন

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অর্জিত ছুটি ছাড়াও চাকরিকালীন বিভিন্ন প্রকার বিশেষ ছুটি ও ভাতার বিষয়ে বিদ্যমান বিধিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস্ (BSR) এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা পর্যালোচনা করে নৈমিত্তিক ছুটি, প্রসূতি ছুটি, বিনোদন ভাতা এবং সংগনিরোধ ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)

বিধিমালা অনুযায়ী, নৈমিত্তিক ছুটি কোনো স্বীকৃত ছুটি নয় এবং একে কাজে অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করা হয় না একজন সরকারি কর্মচারী বছরে সর্বমোট ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারেন, তবে একনাগাড়ে ১০ দিনের বেশি এই ছুটি নেওয়া যায় না পার্বত্য জেলায় কর্মরতদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় ২০ দিনই একসাথে ভোগের সুযোগ রয়েছে

গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ:

  • কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই ছুটিতে থাকাকালীন সদর দপ্তর ত্যাগ করা যাবে না

  • এই ছুটি ভোগকালে কোনো বদলি ব্যবস্থা করা হয় না, তাই জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন

  • নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকাকালীন বিদেশে গমন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

  • এটি সাধারণ বা সাপ্তাহিক ছুটির আগে বা পরে সর্বোচ্চ ৩ দিন পর্যন্ত সংযুক্ত করা যায়, তবে উভয় দিকে সংযুক্ত করা সম্ভব নয়

প্রসূতি ছুটির আধুনিকায়ন

নারী কর্মচারীদের জন্য প্রসূতি ছুটির বিধানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে একজন নারী কর্মচারী সমগ্র চাকুরিকালে দুইবার পূর্ণ বেতনে ৬ মাস করে প্রসূতি ছুটি পাবেন এই ছুটি প্রসূতির “ছুটি হিসাব” থেকে বিয়োগ করা হয় না এমনকি যদি কোনো নারী ৬ মাসের কম বয়সী সন্তানসহ চাকরিতে নতুন যোগদান করেন, তবে সন্তানের বয়স ৬ মাস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রসূতি ছুটি ভোগ করতে পারবেন

শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা (Rest and Recreation Allowance)

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীরা প্রতি ৩ বছর অন্তর শ্রান্তি ও বিনোদনের জন্য ১৫ দিনের ছুটিসহ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ বিনোদন ভাতা হিসেবে পাবেন

  • শর্ত: এই ভাতা পাওয়ার মূল শর্ত হলো কমপক্ষে ১৫ দিনের ছুটি গ্রহণ করা

  • অগ্রাধিকার: যাদের অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) কাছাকাছি, তারা এই ভাতা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন

  • ব্যতিক্রম: চুক্তিভিত্তিক বা ওয়ার্কচার্জড কর্মচারীরা এই ভাতার আওতাভুক্ত নন

অন্যান্য বিশেষ ছুটি ও নিয়ম

  • সংগনিরোধ ছুটি (Quarantine Leave): পরিবারের কেউ সংক্রামক ব্যাধিতে (যেমন: কলেরা, টাইফাস) আক্রান্ত হলে অফিস প্রধান সর্বোচ্চ ২১ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত এই ছুটি মঞ্জুর করতে পারেন একে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করা হয়

  • ঐচ্ছিক ছুটি: নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করা যায়, যা সাপ্তাহিক ছুটির সাথে যুক্ত করা সম্ভব

  • বাধ্যতামূলক ছুটি: নাশকতামূলক বা দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন কোনো কর্মচারীকে কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন

  • বেতন কর্তন: যথাযথ কারণ ছাড়া অফিসে উপস্থিত না হলে বা নিয়ম লঙ্ঘন করলে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতন কর্তন করতে পারেন

এই বিধিমালাগুলোর সঠিক পরিপালন সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বিস্তারিত পিডিএফটি সংগ্রহ করুন: ছুটির বিধান

অনুমতি ছাড়া ছুটি কাটালে কি শাস্তি হয়?

অনুমতি ছাড়া বা নির্ধারিত ছুটির নিয়ম লঙ্ঘন করে ছুটি কাটালে প্রধানত আর্থিক ও প্রশাসনিক শাস্তির বিধান রয়েছে:

  • বেতন কর্তন: কোনো কর্মচারী যদি অফিস বা কর্মস্থলে উপস্থিতি সংক্রান্ত বিধি বা সরকারি আদেশ লঙ্ঘন করেন, তবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর (Show Cause) সুযোগ দিয়ে তার বেতন কর্তন করতে পারেন

  • অনুপস্থিতিজনিত দণ্ড: ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি কোনো কর্মচারী অনুপস্থিত থাকেন এবং কর্তৃপক্ষ সেই অনুপস্থিতিকাল পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত না করেন, তবে উক্ত সময়ের জন্য তিনি কোনো ছুটিকালীন বেতন পাবেন না

  • ছুটির হিসাব থেকে কর্তন: নিয়মবহির্ভূত অনুপস্থিতির সময়টি যদি ‘অর্ধ গড় বেতনে ছুটি’ হিসেবেও গণ্য হয়, তবুও সেটি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ‘ছুটির হিসাব’ থেকে বাদ দেওয়া হবে

  • উভয় কর্মকর্তার দায়: বিশেষ করে নৈমিত্তিক ছুটির ক্ষেত্রে, যদি অনুমতি ছাড়া বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছুটি ভোগ করার কারণে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়, তবে ছুটি প্রদানকারী ও ছুটিভোগকারী উভয় কর্মকর্তাই দায়ী থাকবেন

  • সদর দপ্তর ত্যাগের বিধি: কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নৈমিত্তিক ছুটিভোগকারী কোনো কর্মচারী তার সদর দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন না

যদি এই ধরনের বেতন কর্তনের আদেশে কোনো কর্মচারী সংক্ষুব্ধ হন, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আদেশের পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তাকে শুনানির সুযোগ দিয়ে আগের আদেশ সংশোধন, বাতিল বা বহাল রাখতে পারেন

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *