বাসা । অফিস কক্ষ । ডরমেটরী বরাদ্দ

সরকারি বাসা বরাদ্দ ২০২৬ । উচ্চতর বা নিম্ন শ্রেণির বাসায় থাকলে ভাড়া কর্তনের নিয়ম কী?

সরকারি চাকরিতে গ্রেড বা মূল বেতন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির (টাইপ) বাসা বরাদ্দ পাওয়ার নিয়ম দীর্ঘদিনের। তবে অনেক সময় দেখা যায়, প্রাপ্য টাইপের বাসা খালি না থাকায় একজন কর্মচারী তার জন্য নির্ধারিত শ্রেণির চেয়ে উচ্চতর বা নিম্ন শ্রেণির বাসায় বসবাস করছেন। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়া কীভাবে কর্তন করা হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই অস্পষ্টতা রয়েছে। ফিরোজ মিয়ার চাকরির বিধানাবলী এবং সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে বিষয়টি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

১. নিম্ন শ্রেণির বাসায় বসবাস করলে ভাড়া কত কাটবে?

চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, একজন কর্মচারী যদি তার প্রাপ্য শ্রেণির চেয়ে নিম্ন শ্রেণির বাসায় বসবাস করেন, তবে তাকে ওই নিম্ন শ্রেণির বাসার জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ হারে ভাড়া প্রদান করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ:

যদি একজন কর্মচারীর মূল বেতন স্কেল ৯,০০০ – ২১,৮০০ টাকা হয় এবং তিনি নিয়ম অনুযায়ী ‘B’ টাইপ বাসা প্রাপ্য হন, কিন্তু কোনো কারণে ‘B’ টাইপ খালি না থাকায় তাকে ‘A’ টাইপ (যা মূলত ৮,২৫০ – ২০,০১০ টাকা স্কেলের কর্মচারীদের জন্য) বাসায় থাকতে হয়, তবে তাকে ‘A’ টাইপ বাসার জন্য প্রযোজ্য সর্বোচ্চ হার অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ, তিনি ওই নিম্নতর স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপের সমপরিমাণ ভাড়া দেবেন।

২. উচ্চতর শ্রেণির বাসায় বসবাস করলে ভাড়া কত কাটবে?

বিপরীতভাবে, যদি কোনো কর্মচারী তার পদের তুলনায় উচ্চতর শ্রেণির বা বড় বাসায় বসবাস করেন, তবে তাকে ওই উচ্চতর শ্রেণির বাসায় বসবাসযোগ্য কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন হারে ভাড়া প্রদান করতে হবে।

বাস্তব উদাহরণ:

ধরা যাক, একটি কলোনিতে কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৫ রুমের ‘E’ টাইপ বাসা খালি পড়ে আছে। এখন ১১-২০ গ্রেডের একজন কর্মচারী (যিনি সাধারণত ছোট বাসা প্রাপ্য) যদি তার পারিবারিক প্রয়োজনে ওই বড় বাসায় থাকতে চান এবং কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়, তবে ওই কর্মচারীকে ‘E’ টাইপ বাসার জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন রেটে (যেমন: ২২,২৫০ টাকা মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাড়া) অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এতে সরকারের রাজস্ব যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি কর্মচারীর আবাসন সমস্যারও সমাধান হয়।

৩. স্বামী-স্ত্রী উভয়ই সরকারি চাকরিজীবী হলে নিয়ম

বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন এবং একত্রে বসবাস করেন, তবে নিয়মগুলো নিম্নরূপ:

  • যার নামে বাসা বরাদ্দ থাকবে, শুধুমাত্র তাঁর বেতন থেকেই বাসা ভাড়া কর্তন করা হবে।

  • স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে একজন (যার নামে বরাদ্দ নেই) নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী বাসা ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance) প্রাপ্য হবেন।

৪. বাসা ভাড়া থেকে অব্যাহতি

চাকরির বিধিমালা বা বিশেষ নিয়োগপত্রের শর্তানুসারে যে সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারী বাসা ভাড়া প্রদান হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত, তাদের সরকারি বাসায় বসবাসের জন্য কোনো প্রকার ভাড়া প্রদান করতে হবে না।


সারসংক্ষেপ টেবিল:

পরিস্থিতির ধরনভাড়া কর্তনের হার
নিম্ন শ্রেণির বাসায় থাকলেওই শ্রেণির জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ হার
উচ্চতর শ্রেণির বাসায় থাকলেওই শ্রেণির জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন হার
স্বামী-স্ত্রী একত্রে থাকলেযার নামে বরাদ্দ, শুধু তার বেতন থেকে কর্তন

উপসংহার:

সরকারি বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—আপনি যে শ্রেণির সুবিধা গ্রহণ করছেন, সেই শ্রেণির ভাড়ার কাঠামোই আপনার ওপর কার্যকর হবে। তবে তা অবশ্যই বিধি মোতাবেক যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সাপেক্ষে হতে হবে।

নিম্নগ্রেডের কর্মচারী কি উচ্চ গ্রেডের বাসা নিতে পারে?

হ্যাঁ, নিম্নগ্রেডের কর্মচারী উচ্চ গ্রেডের বাসা বরাদ্দ নিতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও ভাড়ার নিয়ম প্রযোজ্য হয়। আপনার দেওয়া তথ্যের আলোকে বিষয়টি নিচে স্পষ্ট করা হলো:

  • কর্তৃপক্ষের অনুমতি: যদি কোনো সরকারি কলোনিতে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বাসা (যেমন: ৫ রুমের E টাইপ বাসা) খালি পড়ে থাকে এবং সরকারের রাজস্ব নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তা বরাদ্দ দিতে পারেন।

  • ভাড়া কর্তনের নিয়ম: নিম্নগ্রেডের কর্মচারী যখন উচ্চ গ্রেডের বাসায় থাকবেন, তখন তাকে ওই উচ্চতর শ্রেণির বাসায় বসবাসযোগ্য কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন হারে বাসা ভাড়া প্রদান করতে হবে।

  • উদাহরণ: ধরা যাক, ১১-২০ গ্রেডের একজন কর্মচারী ৫ রুমের কর্মকর্তাদের বাসা বরাদ্দ পেলেন। সেক্ষেত্রে তাকে কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন স্কেল (যেমন: ২২,২৫০ টাকা মূল বেতন) অনুযায়ী বাসা ভাড়া দিতে সম্মত থাকতে হবে।

সারকথা: রাজস্ব ক্ষতি এড়াতে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ নিম্নগ্রেডের কর্মচারীকে উচ্চ গ্রেডের বাসা দিতে পারেন, তবে ভাড়া গুনতে হবে কর্মকর্তাদের রেট অনুযায়ী।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *