সরকারি কর্মচারীদের ১০ দফা দাবি ২০২৬ । প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় নতুন উদ্যোগ চায় কর্মচারীগণ?
সরকারি প্রশাসনের প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মচারীদের আর্থিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের দক্ষতা ও মনোবল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এই প্রেক্ষাপটে বাস্তব পরিস্থিতি ও সমস্যাগুলো তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্রুত সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে একটি কর্মচারী সংগঠন।
৯ম পে স্কেল ও আর্থিক নিরাপত্তার দাবি
সংগঠনটির উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জোরালো দাবি হলো—অবিলম্বে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে নতুন বেতন কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন। এছাড়া, পূর্বের ন্যায় সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করার দাবি জানানো হয়েছে, যা সরাসরি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
পদোন্নতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা
প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে সংগঠনটি ব্লক পোস্ট সমস্যা সমাধান করে পদোন্নতির পথ সুগম করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন একই পদে আটকে থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একইসাথে, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্থানান্তর ও পোস্টিং নীতি’ প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে, যাতে করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর হয়।
স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক কল্যাণ
কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দাবিনামায় আরও বলা হয়েছে:
দক্ষতা উন্নয়ন: নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধি।
খাদ্য নিরাপত্তা: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অভিযোগ নিষ্পত্তি: যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ‘সমন্বিত ও কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা’ চালু করা।
প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রত্যাশা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে। সংগঠনের প্রতিনিধিরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারলে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র এবং কর্মচারীদের বঞ্চনার কথা বিস্তারিত তুলে ধরা সম্ভব হবে।

পে স্কেল নিয়ে দেরী কেন সহ্য হচ্ছে না?
নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তাতে সরকারি কর্মচারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। পে-স্কেল নিয়ে এই দীর্ঘসূত্রতা সহ্য করতে না পারার পেছনে মূলত ৪টি প্রধান কারণ কাজ করছে:
১. মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের আগুন
গত কয়েক বছরে চাল, ডাল, তেলসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণ কর্মচারীদের বেতন যে নির্দিষ্ট অংকে স্থবির হয়ে আছে, তা দিয়ে মাসের মাঝামাঝি সময়েই সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ছে। এই আর্থিক টানাপোড়েন থেকেই ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
২. বেতন বৈষম্য বৃদ্ধি
৮ম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা বা ইনক্রিমেন্ট যেভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, নিম্ন ও মধ্যম ধাপের কর্মচারীরা সেভাবে সুফল পাচ্ছেন না। ফলে ধাপগুলোর মধ্যে দূরত্ব বা বৈষম্য প্রকট হচ্ছে, যা সহ্য করার ক্ষমতা কর্মচারীরা হারিয়ে ফেলছেন।
৩. টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বন্ধ থাকা
আগে পে-স্কেল দেরি হলেও টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের মাধ্যমে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাওয়া যেত। কিন্তু ৮ম পে-স্কেলে এগুলো বাতিল করায় কর্মচারীরা এখন কেবল একটি নির্দিষ্ট বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ওপর নির্ভরশীল। পদোন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বেতন বাড়ার আর কোনো বড় সুযোগ নেই, যা দীর্ঘমেয়াদী হতাশা তৈরি করছে।
৪. সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক চাপ
সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক মর্যাদা অনেকাংশে তাদের জীবনযাত্রার মানের ওপর নির্ভর করে। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে কর্মচারীরা মনে করছেন, ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন ছাড়া এই সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখা আর সম্ভব নয়।



