অডিট না হওয়ার অজুহাতে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন আটকে রাখা অবৈধ: অর্থ মন্ত্রণালয়
অবসরগামী সরকারি কর্মচারীদের পেনশন প্রাপ্তি সহজীকরণ এবং হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কর্মকালীন কোনো মেয়াদের হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন না হওয়ার অজুহাতে পেনশন মঞ্জুরিতে বিলম্ব করা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের (প্রবিধি-১ অধিশাখা) এক জরুরি পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। যুগ্ম সচিব ড. মোঃ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, কিছু কিছু পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ অবসরগামী কর্মচারীদের কর্মস্থলের কোনো মেয়াদের হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ার কারণ দেখিয়ে পেনশন মঞ্জুরিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব করছেন, যা সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী।
আইনি ভিত্তি ও সার্ভিস রুলস: অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে সরকারি চাকরি বিধিমালা উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) পার্ট-১’ এর বিধি ২৪২ থেকে ২৫৩ এবং ‘বেসামরিক সরকারি চাকুরিজীবীদের পেনশন মঞ্জুরি ও পরিশোধ সংক্রান্ত বিধি/পদ্ধতি অধিকতর সহজীকরণ আদেশ, ২০০৯’ অত্যন্ত স্পষ্ট। এই সমস্ত বিধি ও আদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, কোনো মেয়াদের অডিট না হওয়ার কারণে পেনশন আটকে রাখা বা বিলম্ব করার কোনো আইনগত ভিত্তি বা সুযোগ নেই।
পটভূমি ও সিএজি কার্যালয়ের নির্দেশনা: জানা গেছে, বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয় থেকেও ইতিপূর্বে এক চিঠির মাধ্যমে অবসরগামী সরকারি কর্মচারীদের পেনশন মঞ্জুরিতে অনিরীক্ষিত মেয়াদের কারণে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সিএজি কার্যালয়ের সেই তাগিদ এবং বিদ্যমান আইনের আলোকে অর্থ মন্ত্রণালয় এই চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করল।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ: অর্থ মন্ত্রণালয় দেশের সকল পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের অনভিপ্রেত এবং বিধিবহির্ভূত বিলম্বকরণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরে যাওয়ার পর অডিট সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াই দ্রুততম সময়ে তাদের প্রাপ্য পেনশন ও আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) সুবিধা লাভ করতে পারবেন।
ভোগান্তি হ্রাসের আশা: প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্দেশনার ফলে মাঠ পর্যায়ের পেনশন ফাইল প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমবে এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের মানসিক ও আর্থিক ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
এই পরিপত্রটির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ (সিজিএ) সরকারের সকল গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


