পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

পিআরএল ভোগ না করে সরাসরি অবসর: সুবিধা ও নিয়মাবলী

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অবসর উত্তর ছুটি’ বা পিআরএল (Post Retirement Leave) একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে অনেকেই ব্যক্তিগত বা আর্থিক কারণে পিআরএল ভোগ না করে সরাসরি পূর্ণ অবসরে যেতে চান। বর্তমান বিধিবিধান অনুযায়ী, পিআরএল বাতিল করে সরাসরি পেনশনে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও আর্থিক পরিবর্তনের বিষয় জড়িত রয়েছে।

পিআরএল বিহীন অবসরের মূল বিষয়সমূহ

১. ছুটি বাতিল ও সরাসরি আবেদন: যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পিআরএল ভোগ করতে না চান, তবে তাকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পিআরএল বাতিলের আবেদন করতে হয়। পিআরএল শুরু হওয়ার আগেই বা চলাকালীন এই ছুটি সমর্পণ করে সরাসরি পেনশনের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

২. শতভাগ (১০০%) পেনশন কি পাওয়া সম্ভব? বর্তমানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিজীবীদের জন্য শতভাগ (১০০%) পেনশন সমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। ২০১৭ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, পেনশনারদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মচারীদের গ্রস পেনশনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলক সমর্পণ (এককালীন উত্তোলন) করতে হয় এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ মাসিক পেনশন হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। ফলে পিআরএল বাতিল করলেও আপনি এককালীন ১০০% টাকা পাবেন না, বরং নিয়ম অনুযায়ী অর্ধাংশ এককালীন এবং বাকি অংশ মাসিক ভিত্তিতে পাবেন।

৩. আর্থিক লাভ-ক্ষতি: * ১২ মাসের বেতন: পিআরএল ভোগ না করলে ওই ১২ মাসের পূর্ণ বেতন ও অন্যান্য ভাতা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন।

  • দ্রুত এককালীন অর্থ: পিআরএল চলাকালীন সাধারণত এককালীন আনুতোষিক (Gratuity) পাওয়া যায় না। সরাসরি অবসরে গেলে এবং কাগজপত্র ঠিক থাকলে দ্রুত ল্যাম্পগ্রান্ট ও আনুতোষিকের টাকা পাওয়া সম্ভব।

পেনশন প্রাপ্তির সময়সীমা ও প্রক্রিয়া

সরাসরি অবসরে গেলে পেনশন মঞ্জুরির ক্ষেত্রে সরকারি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে:

  • প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ: আবেদন প্রাপ্তির ১ মাসের মধ্যে পেনশন মঞ্জুরকারী কর্মকর্তা পেনশন মঞ্জুর করবেন।

  • হিসাব রক্ষণ অফিস: পেনশন মঞ্জুর হওয়ার পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব রক্ষণ অফিস পিপিও (PPO) জারি করবে।

যদি আবেদনকারীর সার্ভিস বই নির্ভুল থাকে এবং কোনো অডিট আপত্তি না থাকে, তবে এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পেনশনের অর্থ পাওয়া সম্ভব।

পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা

২০১৭ সালের পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বিধি অনুযায়ী:

  • বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: পেনশনার বা পারিবারিক পেনশনারগণ তাদের মাসিক নিট পেনশনের ওপর প্রতি বছর ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন।

উপসংহার

পিআরএল ভোগ না করে সরাসরি অবসরে গেলে দ্রুত এককালীন টাকা পাওয়া গেলেও এক বছরের পূর্ণ বেতন হারানো একটি বড় আর্থিক বিষয়। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও পেনশনের নথিপত্র প্রস্তুত আছে কি না, তা যাচাই করেই পিআরএল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


তথ্যসূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও চাকরি বিধিমালা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *