সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

বিসিএস উত্তীর্ণ সমীক্ষা ২০২৬ । কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিসিএস পরীক্ষায় চান্স বেশি পায়?

২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক বিসিএস উত্তীর্ণের কোনো আনুষ্ঠানিক “র‍্যাঙ্কিং” বা তালিকা প্রকাশ করে না। তবে বিগত কয়েকটি বিসিএস (যেমন ৪৪তম, ৪৫তম এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএস) এবং সাধারণ সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করলে নির্দিষ্ট কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্য স্পষ্ট দেখা যায়।

বিসিএস পরীক্ষায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশি সুযোগ পায়, তার একটি সাধারণ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU)

বিসিএস এর ইতিহাসে এবং বর্তমান সময়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

  • কেন এগিয়ে: বিশাল ছাত্রসংখ্যা, বিসিএস প্রস্তুতির অনুকূল পরিবেশ এবং লাইব্রেরিতে নিয়মিত গ্রুপ স্টাডির সংস্কৃতি এদের সাফল্যের প্রধান কারণ।

  • সাফল্য: প্রশাসন, পুলিশ এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারের মতো প্রতিযোগিতামূলক পদগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সব সময়ই উল্লেখ্যযোগ্য।

২. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (RU)

বিগত কয়েক বছরে বিসিএসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ঈর্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কড়া টক্কর দিচ্ছে। উত্তরবঙ্গের এই শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা ও সাধারণ ক্যাডারে সুযোগ পাচ্ছেন।

৩. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU)

কারিগরি বা প্রফেশনাল ক্যাডারের (বিশেষ করে কৃষি ক্যাডার) ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে। বিসিএস পরীক্ষায় টেকনিক্যাল ক্যাডারের বিশাল একটি অংশ এখান থেকেই নিয়োগ পান।

৪. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (CU)

এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও প্রতি বছর একটি বড় অংশ বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নির্বাচিত হন। বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যাডারগুলোতে বেশ ভালো ফলাফল করে থাকেন।

৫. বুয়েট এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় (CUET, KUET, RUET)

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বুয়েটসহ অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিসিএস (সাধারণ ক্যাডার) পরীক্ষায় প্রচুর আগ্রহী হচ্ছেন এবং মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করছেন। বিশেষ করে বিসিএস টেলিকম বা গণপূর্তের মতো টেকনিক্যাল ক্যাডারে তাদের বিকল্প নেই।

৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজসমূহ

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে (সহকারী সার্জন) দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরাই সুযোগ পান। বিশেষ করে ৪২তম এবং ৪৬তম (যেখানে বড় স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়োগ ছিল) বিসিএসে তাদের সাফল্য ছিল শতভাগ।


সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এটি বলা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হলেও বিসিএসে চান্স পাওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মেধা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে।

একটি বিশেষ নোট: বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিসিএস পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছেন। তাই আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়েরই হোন না কেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিত পড়াশোনাই বিসিএসে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে কত শতাংশ বিসিএস পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে?

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক কত শতাংশ শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন, তার কোনো অফিসিয়াল বা বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তবে বিভিন্ন বিসিএস-এর চূড়ান্ত ফলাফল পরবর্তী গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং অনানুষ্ঠানিক সমীক্ষা অনুযায়ী একটি আনুমানিক ধারণা পাওয়া যায়।

বিগত কয়েকটি বিসিএস (যেমন ৪১তম, ৪৩তম এবং ৪৪তম) এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU)

সাধারণত মোট সুপারিশপ্রাপ্ত ক্যাডারদের মধ্যে ২০% থেকে ২৫% শিক্ষার্থীই থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এটি সংখ্যায় ৩৫০ থেকে ৫০০ জনের মতো হতে পারে (ক্যাডার পদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে)। প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে এবং সাধারণ ক্যাডারে তাদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি।

২. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (RU)

বিসিএস সাফল্যে দ্বিতীয় অবস্থানে সাধারণত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থাকে। মোট উত্তীর্ণদের মধ্যে প্রায় ১০% থেকে ১২% শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসেন। বিশেষ করে শিক্ষা এবং সাধারণ ক্যাডারে তাদের বড় একটি অংশ জায়গা করে নেয়।

৩. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU)

কারিগরি বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের (কৃষি) ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য প্রায় ৮০% থেকে ৯০%। অর্থাৎ, কৃষি ক্যাডারের সিংহভাগ পদই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দখল করেন। সামগ্রিক ক্যাডার তালিকায় তাদের অবদান প্রায় ৫% থেকে ৮%

৪. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (CU)

এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০% থেকে ১৫% শিক্ষার্থী বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নির্বাচিত হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে বিসিএস পুলিশ ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে বেশ ভালো সাফল্য দেখিয়ে আসছেন।

৫. বুয়েট (BUET) ও মেডিকেল কলেজসমূহ

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণদের ১০০% ই আসে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো থেকে। অন্যদিকে, বুয়েট বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যাডারে (যেমন প্রশাসন বা পুলিশ) আসা শুরু করায় তাদের হারও দিন দিন বাড়ছে, যা বর্তমানে মোট উত্তীর্ণের প্রায় ৩% থেকে ৫%

৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (NU)

অতীতের তুলনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন অনেক বেশি বিসিএস ক্যাডার হচ্ছেন। বর্তমানে মোট সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৫% থেকে ৭% শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজ থেকে উঠে আসছেন।


মনে রাখা জরুরি: ২০২৬ সালের বিসিএস উত্তীর্ণের কোনো নির্দিষ্ট শতাংশ এখনো নির্ধারিত নয়, কারণ এটি প্রতি বছর বিজ্ঞাপিত পদের সংখ্যা এবং পরীক্ষার্থীদের মেধার ওপর নির্ভর করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাডার হওয়ার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাধান্য থাকলেও, যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে বিসিএস জয় করা সম্ভব হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *