চট্টগ্রামে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ আয়োজিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে অবিলম্বে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক জনাব আবদুল মালেক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন:
“সরকারি কর্মচারীরা নিরলসভাবে রাষ্ট্রের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অথচ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কোনো নতুন বেতন কাঠামো গঠন করা হয়নি। একদিকে পদোন্নতি ও টাইম স্কেল সংকুচিত করা হয়েছে, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে কর্মচারীরা আজ দিশেহারা। বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ২২ লাখ সরকারি চাকরিজীবী চরম আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন।”
প্রধান বক্তার হুঁশিয়ারি
প্রধান বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, আগামী জাতীয় বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা এখন সময়ের দাবি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি দ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন না হয়, তবে সরকারি কর্মচারীরা ঋণের চাপে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে, যা তাদের কর্মস্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সমাবেশে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মো: মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংহতি প্রকাশ করেন:
শাহাবুদ্দিন মুন্সী, যুগ্ম আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় কমিটি।
এম আব্দুল বাতেন বিপ্লব, সভাপতি (ঢাকা), বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন।
মো: আবু ছায়েদ, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম জজকোর্ট কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ।
মো: শরিফ উল্যাহ, সভাপতি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ১৭-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতি।
মো: নুরুল ইসলাম, সভাপতি, চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়ন।
মো: ইব্রাহিম খোকন, সমন্বয়ক, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
দাবি ও প্রেক্ষাপট
সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলের পর জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও বেতন বাড়েনি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বর্ধিত বিল পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কয়েকশ কর্মচারী ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। তারা স্লোগানে স্লোগানে অতি দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে একটি প্রতিনিধি দল তাদের দাবিনামা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানোর ঘোষণা দেন।



