২৯ বছর ধরে দিনে ১৬ ঘণ্টা ডিউটি: ৫৯ বছর বয়সেও বিরামহীন পাহারায় এক বৃদ্ধ নৈশ প্রহরী
সরকারি চাকরিতে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা হলেও দেশের কোনো কোনো দপ্তরে তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতে নিচুতলার কর্মচারীদের ওপর কাজের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার অমানবিক চিত্র ফুটে উঠেছে। এমনই এক ভুক্তভোগী ২০তম গ্রেডের একজন নৈশ প্রহরী, যাকে দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় ১৬ ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
অমানবিক কর্মঘণ্টার নেপথ্যে: প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মাত্র একজন নৈশ প্রহরী থাকায় তাকে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করতে হয়। ৫৯ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধের পক্ষে এই দীর্ঘ সময় জেগে থেকে পাহারা দেওয়া শুধু শারীরিক কষ্টই নয়, বরং চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, দীর্ঘ ২৯ বছরের চাকরি জীবনে অসুস্থতা ছাড়া তিনি কোনো সাধারণ ছুটি ভোগ করার সুযোগ পাননি।
আইন ও বিধিমালা কী বলে? সরকারি চাকুরির বিধিবিধান অনুযায়ী, একজন কর্মচারীর দৈনিক কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা। নৈশ প্রহরীদের ক্ষেত্রে কাজের ধরন অনুযায়ী শিফটিং ডিউটি থাকার কথা। যদি কাউকে দিয়ে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হয়, তবে ‘ওভারটাইম অ্যালাউন্স’ বা অতিরিক্ত কাজের ভাতা প্রদান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই বিধিমালার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর একজন কর্মীকে দিয়ে দ্বিগুণ পরিশ্রম করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত ও প্রতিকার: প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা পর্যায়ে অনেক সময় ‘কর্তার ইচ্ছাই কর্ম’ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী কর্মচারীর করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা ৩টি পরামর্শ দিয়েছেন: ১. লিখিত আবেদন: অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কমানোর জন্য এবং ওভারটাইম ভাতার দাবি জানিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা। ২. মানবিক কারণ: যেহেতু কর্মচারীর বয়স ৫৯ বছর এবং তিনি অবসরের (PRL) কাছাকাছি, তাই শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করে ডিউটি রোস্টার পরিবর্তনের অনুরোধ করা। ৩. উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ: সরাসরি জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর অমানবিক এই ডিউটি থেকে নিষ্কৃতি চেয়ে আবেদন করা যেতে পারে।
উপসংহার: দেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে নিচুতলার কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৫৯ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের ২৯ বছরের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রশাসন কি তাকে শেষ বয়সে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দেবে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
পরামর্শ: আপনি যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচিত কেউ হন, তবে তাকে দিয়ে অবিলম্বে একটি লিখিত আবেদন করানোর ব্যবস্থা করুন। অনেক সময় উপরের কর্মকর্তারা নিচের স্তরের এই কষ্টের খবরগুলো বিস্তারিত জানেন না বা গুরুত্ব দেন না। লিখিত নথি থাকলে পরবর্তীতে আইনি বা প্রশাসনিক সুবিধা পেতে সহজ হবে।



