ওজিটিটি (OGTT) পরীক্ষায় নির্ভুল ফল পেতে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের বিশেষ নির্দেশিকা
ডায়াবেটিস শনাক্তকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হলো ওজিটিটি (OGTT) বা ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট। এই পরীক্ষার ফলাফল শতভাগ নির্ভুল হওয়া জরুরি, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই একজন রোগীর পরবর্তী চিকিৎসা ও জীবনধারা নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি ও রোগীদের পালনীয় নিয়মাবলী নিয়ে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেক সময় সঠিক নিয়ম না জানার ফলে পরীক্ষার ফলাফলে ত্রুটি দেখা দেয়। তাই রোগীদের সুবিধার্থে পরীক্ষার ৩ দিন আগে থেকে শুরু করে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পালনীয় নিয়মাবলী:
১. পরীক্ষার ৩ দিন আগে: রোগীকে স্বাভাবিক সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ভাত বা রুটির মতো শর্করা জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। এই সময়ে কোনোভাবেই ডায়েটিং করা বা অতিরিক্ত কম খাবার খাওয়া যাবে না।
২. পরীক্ষার আগের রাতে: পরীক্ষার অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আগে থেকে উপবাস থাকতে হবে বা খালি পেটে থাকতে হবে। এই সময়ে চা, কফি বা যেকোনো মিষ্টি জাতীয় পানীয় পান করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
৩. ল্যাবে পৌঁছানোর পর: হাসপাতালে পৌঁছে খালি পেটে প্রথমবার রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা প্রদান করতে হবে। ল্যাবে অবস্থানকালে কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো বা দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪. গ্লুকোজ পান করার নিয়ম: নমুনা দেওয়ার পর ল্যাব থেকে নির্দেশিত ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ ২৫০-৩০০ মিলি পানিতে মিশিয়ে ৫ মিনিট ধরে ধীরে ধীরে পান করতে হবে। গ্লুকোজের পানি একবারে খুব দ্রুত বা ‘গপগপ’ করে খাওয়া যাবে না।
৫. পরবর্তী ২ ঘণ্টা: গ্লুকোজ খাওয়ার পর পরবর্তী ২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে রোগীকে ল্যাবের নির্ধারিত স্থানে শান্ত হয়ে বসে থাকতে হবে। কোনো প্রকার হাঁটাহাঁটি, পরিশ্রম, ধূমপান বা অন্য কোনো কিছু খাওয়া যাবে না।
সঠিক ফলাফল প্রাপ্তি: নির্দেশিকায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্লুকোজ খাওয়ার ঠিক ২ ঘণ্টা পর অবশ্যই দ্বিতীয়বার নমুনা দিতে হবে। সময়ের হেরফের হলে বা নির্দেশিত নিয়ম না মানলে টেস্টের সঠিক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, রোগীরা এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে খুব সহজেই এবং নির্ভুলভাবে ডায়াবেটিস পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবেন। একইসাথে হাসপাতালের পরিবেশ শান্ত ও পরিষ্কার রাখতে রোগীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।



