সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি: বিপিএসসি’র পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যার আহ্বান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক, আবগারি ও ভ্যাট বিভাগের ‘সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা’ (১০ম গ্রেড) পদে পদোন্নতির সুপারিশ প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু আইনি ও প্রশাসনিক অসংগতি চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। এসব অসংগতির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় স্পষ্টীকরণ চেয়েছে কমিশন।
গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (১৪ বৈশাখ ১৪৩৩) তারিখে বিপিএসসি সচিবালয় থেকে জারিকৃত এক পত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে। বিপিএসসি’র পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে মোট ৫১ জন কর্মচারীর পদোন্নতির প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণসমূহ: ১. আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন: চিঠিতে বলা হয়েছে, সাধারণত সরকারি চাকুরির সিদ্ধান্ত চাকুরির বিধিমালার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিমালা উপস্থাপন করা হয়নি। বিধিমালার পরিবর্তে ২০১০ সালের একটি আইনের (২৮ নং আইন) রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের দৃষ্টিতে অস্পষ্ট।
২. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা: সরকারি চাকুরির আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৪০(২) অনুচ্ছেদের (ক) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাথে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের সময় বিপিএসসি’র সাথে এমন কোনো পরামর্শ করা হয়েছিল কি না, চিঠিতে তা স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
৩. নিয়োগ বিধিমালার সাথে অসামঞ্জস্য: বর্তমানে সিপাই, টেলিফোন অপারেটর, নকশাবিদ ও লাইব্রেরিয়ান—যাঁদের অধিকাংশ পদ ১৭তম গ্রেডভুক্ত, তাঁদের সরাসরি ১০ম গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিপিএসসি’র মতে, এই বিধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘কমন পদ নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’-এর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। মূলত নিম্ন গ্রেড থেকে সরাসরি উচ্চ গ্রেডে (১০ম গ্রেড) পদোন্নতির এই বড় উল্লম্ফন প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
চিঠিতে বিপিএসসি এই পর্যবেক্ষণগুলোর বিষয়ে দ্রুত স্পষ্টীকরণ দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে অনুরোধ জানিয়েছে। এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আইনি সঠিকতা নিশ্চিত করতেই কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চিঠির অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পিএসসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করেই ৫১ জন কর্মচারীর পদোন্নতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে।

