সরকারি চাকুরেদের জন্য সুখবর: নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত হচ্ছে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, এই বর্ধিত অর্থ দিয়ে নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপে মূল বেতনের অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাস্তবায়ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাস্তবায়নের সম্ভাব্য রোডম্যাপ
সরকার মূলত দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে বিশ্লেষণ করছে:
তিন বছরের পরিকল্পনা: প্রথম বছরে মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করা। পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাকি অর্ধেক মূল বেতন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি) ধাপে ধাপে প্রদান।
দুই বছরের বিকল্প পরিকল্পনা: পুরো বেতন কাঠামোটি দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা।
বর্তমানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীর এই পরিকল্পনার খুঁটিনাটি যাচাই করছেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে আগামী ১ জুলাই থেকেই এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাজেটে বরাদ্দের প্রভাব
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে বাজেট বরাদ্দে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সরকারের লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
| খাত | সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাব |
| বরাদ্দ বৃদ্ধি | প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা |
| মূল লক্ষ্য | নতুন বেতন কাঠামোর প্রাথমিক ধাপের অর্থায়ন |
| অন্যান্য সুবিধা | বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশনারদের সুবিধাও সামঞ্জস্য করা হবে |
নীতিনির্ধারকদের ভাবনা
সংশ্লিষ্টদের মতে, একবারে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে জাতীয় বাজেটে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই “ফেজ-বাই-ফেজ” বা পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির ওপর হঠাৎ কোনো বড় চাপ পড়বে না।
উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। এক দশকেরও বেশি সময় পর নতুন এই কাঠামো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন কেবল অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত নির্দেশনার।



