টিসিবি পন্যের কার্ড ২০২৬ । সুলভ মূল্যে পণ্য নিতে কত টাকা লাগে?
২০২৬ সালে টিসিবি (TCB) ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে একজন কার্ডধারীকে সাধারণত ৪৭০ টাকা থেকে ৫৯০ টাকা (প্যাকেজ ভেদে) খরচ করতে হয়। বর্তমান বাজার দর এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মূল্যের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
টিসিবি পণ্যের বর্তমান মূল্য তালিকা (২০২৬)
| পণ্যের নাম | পরিমাণ | টিসিবি মূল্য (প্রতি কেজি/লিটার) | মোট দাম |
| সয়াবিন তেল | ২ লিটার | ১০০ – ১১৫ টাকা | ২০০ – ২৩০ টাকা |
| মসুর ডাল | ২ কেজি | ৬০ – ৭০ টাকা | ১২০ – ১৪০ টাকা |
| চিনি | ১ কেজি | ৭০ – ৮০ টাকা | ৭০ – ৮০ টাকা |
| চাল (ভর্তুকি মূল্যে) | ৫ কেজি | ৩০ টাকা | ১৫০ টাকা |
| মোট প্যাকেজ | — | — | ৪৭০ – ৫৯০ টাকা |
দ্রষ্টব্য: রমজান মাস বা বিশেষ উপলক্ষে এই তালিকায় ছোলা (৬০ টাকা/কেজি) এবং খেজুর (১৬০ টাকা/কেজি) যুক্ত হতে পারে, সেক্ষেত্রে প্যাকেজের মোট দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড: সরকার বর্তমানে টিসিবির পুরোনো কার্ডগুলো পরিবর্তন করে ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ দিচ্ছে। জুন ২০২৬-এর মধ্যে পুরোনো সব কার্ড বাতিল করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাশ্রয়: বাজার থেকে সমপরিমাণ পণ্য কিনতে যেখানে প্রায় ৯৫০-১০০০ টাকা লাগে, সেখানে টিসিবি কার্ডে প্রায় ৩৫০-৪০০ টাকা সাশ্রয় হয়।
কার্ড পাবেন কীভাবে: আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নতুন স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন বা ডাটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
টিসিবি পন্য কি সবার জন্যই প্রযোজ্য?
না, টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। এটি মূলত দেশের নিম্নআয়ের এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ সরকারি কর্মসূচি।
২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, টিসিবি পণ্য পাওয়ার প্রধান শর্তগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ফ্যামিলি কার্ড (Family Card) থাকা বাধ্যতামূলক
টিসিবির পণ্য উন্মুক্তভাবে যে কেউ কিনতে পারেন না। শুধুমাত্র যাদের কাছে ‘টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড’ বা বর্তমানে প্রচলিত ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ আছে, তারাই এই সুবিধা পান। একটি কার্ডের বিপরীতে একটি পরিবার মাসে একবার এই প্যাকেজটি কিনতে পারে।
২. আয়ের সীমা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা
সরকার সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই কার্ড প্রদান করে:
নিম্নআয়ের মানুষ: যাদের মাসিক আয় সীমিত এবং যারা বাজারের চড়া দামে নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খান।
দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবার: বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরের বস্তি এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলো।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: যারা সরকারের বিভিন্ন ভাতা (যেমন: বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা) পান, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
৩. এলাকার সীমাবদ্ধতা
আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর (সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা) বা ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার/চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এক এলাকার কার্ড দিয়ে অন্য এলাকায় পণ্য নেওয়া যায় না।
কার্ড পেতে কী লাগে? (যদি আপনি আবেদন করতে চান)
আপনি যদি মনে করেন আপনি এই সুবিধার যোগ্য, তবে নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হতে পারে:
আপনার এবং পরিবারের সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
সক্রিয় মোবাইল নম্বর।
স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বর্তমানে সরকার টিসিবির কার্ডগুলোকে ডিজিটাল করছে। আপনার যদি আগের হাতে লেখা কার্ড থাকে, তবে সেটি দ্রুত স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ‘স্মার্ট কার্ডে’ রূপান্তর করে নেওয়া জরুরি, অন্যথায় পণ্য পেতে সমস্যা হতে পারে।




