বাজেট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অর্থ বিভাগের ‘পূর্ব পরামর্শ’ বাধ্যতামূলক: নতুন পরিপত্র জারি
সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যেকোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণ বা আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ‘পূর্ব পরামর্শ’ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যা গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে।
অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব কাউসার নাসরীন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত সংশোধিত) এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর আলোকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
পরিপত্রের মূল বিষয়সমূহ
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রুলস অব বিজনেসের রুল-১৩ অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের সাথে পূর্ব আলোচনা বা পরামর্শ ব্যতিরেকে কোনো মন্ত্রণালয় এমন কোনো আদেশ জারি করতে পারবে না, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। এছাড়া সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর ১৫১ নম্বর নির্দেশ অনুযায়ী, অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সাথে পরামর্শের ক্ষেত্রে রুলস অব বিজনেসের এই বিধান মানা বাধ্যতামূলক।
কেন এই কঠোর নির্দেশনা?
তথ্যাদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক মতামত বা অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, নতুন হাসপাতাল স্থাপন কিংবা বিদ্যমান হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির মতো বড় বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের ফলে সরকারের ওপর অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনা ও ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
নির্দেশনার লক্ষ্য
মূলত বাজেট শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারের আর্থিক ব্যয়কে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে:
পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যেকোনো নতুন প্রকল্প।
আর্থিক প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো পদক্ষেপ।
নতুন কোনো প্রশাসনিক বা অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ।
উপরোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে অবশ্যই ফাইল অনুমোদনের আগে অর্থ বিভাগের সাথে লিখিত পরামর্শ নিশ্চিত করতে হবে।
যুগ্মসচিব কাউসার নাসরীন জানিয়েছেন, এই নির্দেশনা ২৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। প্রশাসনের সকল স্তরে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।



