প্রশাসন I একাউন্টস I অডিট আপত্তি

পিপিআর-২০২৫ । আরএফকিউ (RFQ) পদ্ধতিতে কেনাকাটার নতুন আর্থিক মূল্যসীমা নির্ধারণ

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) ২০২৫-এর বিধি-৯০(১) এবং ৯০(৬) অনুযায়ী পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘কোটেশন প্রদানের অনুরোধ জ্ঞাপন’ বা আরএফকিউ (RFQ) পদ্ধতির নতুন আর্থিক মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই বিধানে বাজেট ও দপ্তরের ধরন অনুযায়ী ব্যয়ের সীমায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।

পরিচালন বাজেটের আওতায় মূল্যসীমা

পরিচালন বাজেটের ক্ষেত্রে দপ্তরগুলোকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

  • সদর দপ্তর (মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর): পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা (বছরে ৩০ লক্ষ) এবং কার্য/ভৌতসেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা (বছরে ৬০ লক্ষ)।

  • বিভাগীয়/আঞ্চলিক/জেলা অফিস: পণ্যের জন্য প্রতিবার ৫ লক্ষ টাকা (বছরে ২৫ লক্ষ) এবং কার্যের জন্য ৮ লক্ষ টাকা (বছরে ৫০ লক্ষ)।

  • উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর: পণ্যের জন্য ৩ লক্ষ টাকা (বছরে ২০ লক্ষ) এবং কার্যের জন্য ৬ লক্ষ টাকা (বছরে ৩০ লক্ষ)।

উন্নয়ন ও নিজস্ব তহবিলের বাজেট

উন্নয়ন বাজেট বা সংস্থার নিজস্ব অর্থে কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে:

  • সদর দপ্তর ও ক-শ্রেণির পিডি: পণ্যের জন্য ৮ লক্ষ টাকা (বছরে ৬০ লক্ষ) এবং কার্যের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা (বছরে ১ কোটি)।

  • খ ও গ-শ্রেণির পিডি: পণ্যের জন্য ৮ লক্ষ টাকা নির্ধারিত থাকলেও কার্যের ক্ষেত্রে খ-শ্রেণির জন্য ১২ লক্ষ (বছরে ৮৫ লক্ষ) এবং গ-শ্রেণির জন্য ১২ লক্ষ (বছরে ৭৫ লক্ষ) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় পতাকাবাহী বাহনের জন্য বিশেষ বিধান

বিধি-৯০(৬)(খ) অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জাতীয় পতাকাবাহী বাহন (যেমন- বিমান বা জাহাজ) মেরামতের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়। এই খাতের প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রয়ের মূল্যসীমা সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারবে। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতেই এই বিশেষ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শ্রেণি বিন্যাসের ব্যাখ্যা

আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ (২০২০) অনুযায়ী ক, খ এবং গ শ্রেণির কর্মকর্তাদের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে:

  • ক শ্রেণি: বিভাগীয় প্রধান এবং ১০০ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ের স্কিম পরিচালক।

  • খ শ্রেণি: ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের স্কিম পরিচালক।

  • গ শ্রেণি: জেলা পর্যায়ের অফিস প্রধান এবং ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের স্কিম পরিচালক।

  • ঘ শ্রেণি: উপজেলা পর্যায়ের অফিস প্রধান।

উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন বাজেটের প্রয়োগ

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ কি উপজেলা পর্যায় থেকে উত্তোলন করা সম্ভব? নীতিগতভাবে উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক স্তর (গ বা ঘ শ্রেণি) অনুযায়ী আরএফকিউ-এর মূল্যসীমা প্রযোজ্য হবে। তবে এটি নির্ভর করবে ওই প্রকল্পের জন্য উপজেলা পর্যায়ে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে কি না তার ওপর।

সর্বোচ্চ কত টাকার আরএফকিউ উপজেলা অফিসের মাধ্যমে করা যাবে?

পিপিআর (PPR), ২০২৫-এর বিধি অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরের জন্য আরএফকিউ (RFQ) পদ্ধতির আর্থিক মূল্যসীমা নিচে দেওয়া হলো:

উপজেলা অফিসের জন্য আরএফকিউ (RFQ) সীমা

ক্রয়ের ধরণপ্রতিবার ক্রয়ের সর্বোচ্চ সীমা (একক)বছরে মোট ক্রয়ের সর্বোচ্চ সীমা
পণ্য (Goods)অনধিক ৩ লক্ষ টাকাসর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা
কার্য ও ভৌতসেবা (Works)অনধিক ৬ লক্ষ টাকাসর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট:

  • বাজেটের উৎস: উপরের এই সীমাটি সাধারণত পরিচালন বাজেটের জন্য প্রযোজ্য।

  • উন্নয়ন বাজেট: যদি উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা কোনো প্রকল্পের ‘গ’ বা ‘ঘ’ শ্রেণির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় কার্যের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবার সর্বোচ্চ ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আরএফকিউ করতে পারবেন (যদি বিধি ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ অনুযায়ী তাকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়)।

  • জাতীয় পতাকাবাহী বাহন: উপজেলা পর্যায়ে যদি জাতীয় পতাকাবাহী কোনো জলযান বা বিশেষ বাহন থাকে, তবে বিধি ৯০(৬)(খ) অনুযায়ী সেটির মেরামতের জন্য প্রতিবার সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আরএফকিউ করা সম্ভব।

সহজ কথায়, সাধারণ অফিস কেনাকাটা বা ছোটখাটো সংস্কার কাজের জন্য একজন উপজেলা কর্মকর্তা পণ্য হলে ৩ লক্ষ এবং কাজ হলে ৬ লক্ষ টাকার বেশি আরএফকিউ করতে পারবেন না।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *