প্রশাসন I একাউন্টস I অডিট আপত্তি

নগদ ক্রয়ের নতুন সীমা নির্ধারণ ২০২৬ । সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে ‘পিপিআর-২০২৫’ কার্যকর

সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ‘পিপিআর, ২০২৫’-এর বিধি-১০০(১) অনুযায়ী সরাসরি নগদ ক্রয়ের (Cash Purchase) নতুন সীমা ও বাৎসরিক বরাদ্দ নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন এই বিধিমালায় পরিচালন ও উন্নয়ন—উভয় বাজেটের আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের দপ্তরের জন্য আলাদা আলাদা ব্যয়ের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিচালন বাজেটে নগদ ক্রয়ের সীমা

পরিচালন বাজেটের আওতায় সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক স্তর ভেদে নগদ ক্রয়ের সীমা ভিন্ন রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী:

  • মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর: প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তরগুলো প্রতিবার কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা নগদ ব্যয় করতে পারবে। তবে এক অর্থবছরে মোট নগদ ক্রয়ের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না।

  • বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়: আঞ্চলিক বা জেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোর জন্য প্রতিবারের সীমা ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • উপজেলা পর্যায়: তৃণমূল পর্যায়ের অফিসগুলো প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবে, যার বার্ষিক সীমা ১৫ লাখ টাকা


উন্নয়ন বাজেটে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ

উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রকল্প পরিচালকদের (PD) ক্যাটাগরি অনুযায়ী নগদ ক্রয়ের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই সীমাগুলো হলো:

প্রকল্পের পর্যায়/ধরণপ্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ সীমাবাৎসরিক মোট সীমা
মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর সদর দপ্তর৭৫ হাজার টাকা২৫ লাখ টাকা
ক-শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক৫০ হাজার টাকা২০ লাখ টাকা
খ-শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক৪০ হাজার টাকা১৫ লাখ টাকা
গ-শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক৩০ হাজার টাকা১০ লাখ টাকা

নীতিমালার গুরুত্ব ও প্রভাব

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, পিপিআর-এর এই নতুন বিন্যাস ছোটখাটো বা জরুরি প্রয়োজনে কেনাকাটার প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করবে। তবে বাৎসরিক একটি নির্দিষ্ট সীমা (Ceiling) বেঁধে দেওয়ায় যত্রতত্র নগদ অর্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, যা সরকারি অর্থ ব্যয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অধিকাংশ বড় কেনাকাটা ই-জিপি (e-GP) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও, দাপ্তরিক দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজনে এই নগদ ক্রয়ের বিধানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নগদ প্রতি ক্রয়ের সর্বোচ্চ সীমা কত?

পিপিআর, ২০২৫ (PPR, 2025)-এর বিধি-১০০(১) অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ে সরাসরি নগদ অর্থ ব্যবহারের (Cash Purchase) ক্ষেত্রে প্রতিবারের সর্বোচ্চ সীমা আপনার দপ্তরের ধরণ বা বাজেটের ওপর নির্ভর করে। আপনি যে ছবিটি দিয়েছেন এবং সরকারি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী সীমাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. পরিচালন বাজেটের (Revenue Budget) আওতায়:

  • মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর (সদর দপ্তর): প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা

  • বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের দপ্তর: প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা

  • উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর: প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৪০,০০০ টাকা

২. উন্নয়ন বাজেটের (Development Budget) আওতায়:

প্রকল্প পরিচালকদের (PD) ক্যাটাগরি অনুযায়ী এই সীমা নির্ধারিত:

  • সদর দপ্তর (মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর): প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা

  • ‘ক’ শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক: প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা

  • ‘খ’ শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক: প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৪০,০০০ টাকা

  • ‘গ’ শ্রেণির প্রকল্প পরিচালক: প্রতি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার দেওয়া ছবিতে “প্রতি ছাত্রের” শব্দটি লেখা থাকলেও মূল বিধিমালা বা গেজেট অনুযায়ী এটি আসলে “প্রতি ক্রয়ের” ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *