বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি । উচ্চতর গ্রেড

সরকারি চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতি: ২০১৫ গেজেটের আলোকে নতুন বিশ্লেষণ

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ প্রবর্তনের পর টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিলুপ্ত করে উচ্চতর গ্রেড প্রথা চালু করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল একই পদে দীর্ঘদিন পদোন্নতিহীন থাকা কর্মচারীদের আর্থিক স্থবিরতা কাটানো। তবে পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতার বিষয়টি অনেকের কাছেই ধোঁয়াশাপূর্ণ।

১. পদোন্নতি মানেই কি ‘ঘড়ি রিসেট’?

হ্যাঁ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো “একই পদে” চাকরির সময়কাল।

  • যখনই আপনি উচ্চতর গ্রেড পাবেন অথবা আপনার পদোন্নতি হবে, তখন থেকে ওই পদে আপনার চাকরিকাল নতুন করে গণনা শুরু হবে।

  • সহজ কথায়, পদোন্নতি পাওয়ার সাথে সাথে আপনার পূর্বের পদের ১০ বা ১৬ বছরের হিসাবের ধারাবাহিকতা উচ্চতর গ্রেডের জন্য আর কার্যকর থাকবে না।

২. নতুন পদে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সংখ্যা

আপনার মূল প্রশ্ন ছিল—আগে একটি উচ্চতর গ্রেড নিলে নতুন পদে গিয়ে কয়টি পাবেন? উত্তর হলো: নতুন পদেও আপনি বিধি অনুযায়ী পুনরায় ২ টি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • কেন পাবেন? উচ্চতর গ্রেড কোনো একক “চাকরি জীবনের” সংখ্যা নয়, বরং এটি “পদের” সাথে সম্পৃক্ত। গেজেট অনুযায়ী, একজন কর্মচারী তার সম্পূর্ণ চাকরি জীবনে উচ্চতর গ্রেড এবং পদোন্নতি মিলিয়ে মোট কতটি সুবিধা পাবেন তার কোনো নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা (যেমন: সর্বোচ্চ ২ টি বা ৩ টি) বেঁধে দেওয়া হয়নি।

  • উদাহরণ: আপনি যদি বর্তমান পদে ১০ বছর পূর্ণ করে ১ম উচ্চতর গ্রেড নেন এবং এরপর পদোন্নতি পান, তবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে (নতুন পদ) ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে পুনরায় ওই পদে ১ম উচ্চতর গ্রেড এবং মোট ১৬ বছর পূর্ণ করলে ২য় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। অর্থাৎ, পূর্বের নেওয়া উচ্চতর গ্রেড আপনার নতুন পদের প্রাপ্যতায় বাধা হবে না।

৩. বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত কোনটি?

যেহেতু আপনার পদোন্নতি ৪-৫ মাস পরেই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, তাই নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:

বিষয়এখনই উচ্চতর গ্রেড নিলেপদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করলে
আর্থিক লাভ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় এখনই বেতন এক ধাপ বাড়বে।পদোন্নতি হলে সাধারণত উচ্চতর গ্রেডের চেয়ে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।
পরবর্তী সুযোগনতুন পদে জয়েন করার দিন থেকে আবার ১০ বছর গুনতে হবে।নতুন পদে জয়েন করার দিন থেকেই ১০ বছরের গণনা শুরু হবে।
ঝুঁকিপদোন্নতি পাওয়ার পর বেতন নির্ধারণে (Fixation) জটিলতা হতে পারে যদি উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির গ্রেড একই হয়।যদি কোনো কারণে পদোন্নতি ৫ মাস পর না হয়ে অনেক দেরি হয়, তবে মাঝখানের সময়ের আর্থিক সুবিধা হারাবেন।

৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট: ১০ ও ১৬ বছরের সমীকরণ

মনে রাখবেন, ২০১৫-এর নিয়ম অনুযায়ী একই পদে ১০ বছর পর ১ম এবং মোট ১৬ বছর (১০+৬) পর ২য় উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যায়। কিন্তু যদি এই সময়ের মধ্যে একবার পদোন্নতি হয়, তবে ওই ১৬ বছরের কাউন্ট ভেঙে যায়। তখন নতুন পদে নতুন করে ১০ ও ১৬ বছর হিসাব করা হয়।

বিশেষ পরামর্শ: যদি আপনার পদোন্নতি ৯৯% নিশ্চিত থাকে, তবে এই ৪-৫ মাসের জন্য উচ্চতর গ্রেডের আবেদন না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর পদমর্যাদা এবং আর্থিক সুবিধা—উভয়ই উচ্চতর গ্রেডের চেয়ে শ্রেয়। পদোন্নতি পাওয়ার পর সেই নতুন পদে আপনি আপনার চাকরি জীবনের বাকি সময়ে পুনরায় বিধি মোতাবেক উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।


সূত্র: অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এবং উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত বিভিন্ন সময়ের স্পষ্টীকরণ পরিপত্র।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *