বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি । উচ্চতর গ্রেড

টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তির জটিলতা ও সমাধান : পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য বিশেষ বিশ্লেষণ

সরকারি চাকরিতে ‘টাইমস্কেল’ প্রথা বিলুপ্ত করে ২০১৫ সালে ‘উচ্চতর গ্রেড’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে। বিশেষ করে যারা ক্যারিয়ারে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং ইতিপূর্বেও টাইমস্কেল ভোগ করেছেন, তাদের জন্য নিয়মটি আরও সূক্ষ্ম।

ঘটনা বিশ্লেষণ

আপনার দেওয়া তথ্যমতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির চিত্রটি নিম্নরূপ:

  • ২০০২ সাল: পিয়ন (২০তম গ্রেড) পদে থাকা অবস্থায় ৮ বছর পূর্তিতে ১ম টাইমস্কেল পেয়ে ১৯তম গ্রেডে উন্নীত হন।

  • ২০০৪ সাল: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (১৬তম গ্রেড) পদে পদোন্নতি পান।

  • ২০১২ সাল: পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে (১৬তম গ্রেডে) ৮ বছর পূর্তিতে আবারও একটি টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেড পেয়ে ১৫তম গ্রেডে উন্নীত হন।

অর্থাৎ, তিনি তার সমগ্র চাকরি জীবনে এ পর্যন্ত মোট ২ (দুই) টি সুবিধা (টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেড) গ্রহণ করেছেন।

আইনি জটিলতা ও স্পষ্টীকরণ

উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত পরিপত্রের (গ) অনুচ্ছেদের (১) উপ-অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

“একই পদে কর্মরত কোন কর্মচারী দুই বা ততোধিক উচ্চতর স্কেল (টাইমস্কেল) / সিলেকশন গ্রেড (যে নামেই অভিহিত হোক) পাইয়া থাকিলে তিনি এই অনুচ্ছেদের অধীন উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হইবেন না।”

এখানে মূল পয়েন্ট হলো ‘একই পদে কর্মরত’ থাকা। তবে পুরো চাকরি জীবনে একজন কর্মচারী সর্বোচ্চ কয়টি উচ্চতর গ্রেড পাবেন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

তিনি কি ২০১৮ সালে বা ১৬ বছর পূর্তিতে পুনরায় উচ্চতর গ্রেড পাবেন?

উত্তর: না, তিনি আর উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. সর্বোচ্চ সীমার বাধা: বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মচারী তার সমগ্র চাকরি জীবনে পদোন্নতি ছাড়া সর্বোচ্চ ২টির বেশি উচ্চতর গ্রেড/টাইমস্কেল পেতে পারেন না। যেহেতু তিনি ইতিমধ্যেই ২০০২ সালে একটি এবং ২০১২ সালে একটি—মোট দুটি সুবিধা ভোগ করেছেন, তাই তিনি আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য নন।

২. টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের সমন্বয়: ২০১৫ সালের বেতনস্কেল চালুর পর পূর্বের নেওয়া ‘টাইমস্কেল’ বর্তমানের ‘উচ্চতর গ্রেড’ হিসেবেই গণ্য হয়। পরিপত্রের ৭(৪) ধারা অনুযায়ী, যারা ইতিমধ্যে দুটি সুবিধা পেয়েছেন, তাদের ১৬ বছর বা অন্য কোনো মেয়াদে নতুন করে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুযোগ নেই।

৩. পদোন্নতি বনাম উচ্চতর গ্রেড: তিনি যদি কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে থাকাকালীন আর কোনো পদোন্নতি না পান এবং ইতিমধ্যেই সেই পদে একটি সুবিধা নিয়ে থাকেন, তবে পরবর্তী সুবিধাটি কেবল তখনই পাওয়া সম্ভব ছিল যদি সেটি তার জীবনের ১ম বা ২য় সুবিধা হতো। যেহেতু তিনি পিয়ন থাকাকালীন একটি সুবিধা নিয়ে ১৯ গ্রেডে গিয়েছিলেন, সেটিও তার মোট সুবিধার তালিকায় যুক্ত হয়ে গেছে।

উপসংহার

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমানে ১৫তম গ্রেডে অবস্থান করছেন। তিনি যেহেতু তার সমগ্র চাকরিকালীন সময়ে ইতিমধ্যেই দুটি টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেড ভোগ করেছেন, সেহেতু অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান পরিপত্র অনুযায়ী ২০১৮ সালে বা ১৬ বছর পূর্তিতে নতুন করে কোনো উচ্চতর গ্রেড (১৪তম গ্রেড) তার প্রাপ্য হবে না। যদি না সরকার ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিশেষ আদেশ বা পরিপত্র জারি করে এই নিয়ম পরিবর্তন করে।


সূত্র: জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ এবং ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে জারিকৃত স্পষ্টীকরণ পরিপত্র।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *