১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন আয়কর হার : সর্বোচ্চ করমুক্ত সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা
জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা এবং মধ্য ও নিম্নবিত্ত করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য নতুন আয়কর কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য এই নতুন করহার এবং করমুক্ত আয়ের সীমা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এবারের সংশোধিত কাঠামোতে সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী, জ্যেষ্ঠ নাগরিক, তৃতীয় লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী এবং দেশের জন্য অবদান রাখা বীর সন্তানদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
বৃদ্ধি পেয়েছে করমুক্ত আয়ের সীমা
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩,৭৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হবে না।
শ্রেণিভিত্তিক করমুক্ত আয়ের নতুন সীমা নিচে তুলে ধরা হলো:
| করদাতার শ্রেণি | নতুন করমুক্ত আয়ের সীমা (টাকা) |
| সাধারণ করদাতা | ৩,৭৫,০০০ |
| নারী এবং ৬৫+ বছর বয়সী নাগরিক | ৪,২৫,০০০ |
| তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি | ৫,০০,০০০ |
| যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা | ৫,২৫,০০০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য এই করমুক্ত আয়ের সীমা আরও ৫০,০০০ টাকা বেশি হবে।
নতুন কর ধাপ ও হারের পুনর্বিন্যাস
করমুক্ত সীমার ঊর্ধ্বের আয়ের জন্য ধাপে ধাপে করহার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা করদাতাদের জন্য কর প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। করমুক্ত সীমার পরবর্তী আয়ের ওপর করের হার নিম্নরূপ:
প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত: ০% (শূন্য)
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত: ১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত: ১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত: ২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত: ২৫%
অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর: ৩০%
ন্যূনতম করের নিয়ম
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো করদাতার করযোগ্য আয় যদি করমুক্ত সীমা পার হয়, তবে এলাকাভেদে নির্ধারিত ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। তবে করদাতাদের স্বস্তি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, যারা একদম নতুন করদাতা (প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছেন), তাদের জন্য ন্যূনতম কর মাত্র ১,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচেতনতা ও দেশের উন্নয়ন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন ও সহজীকৃত কর কাঠামো সাধারণ মানুষকে কর প্রদানে আরও উৎসাহিত করবে। দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার জন্য সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


