সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর ২০২৬ : ১ জুলাই থেকে ৯ম পে-স্কেল কার্যকরের প্রস্তুতি, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে রূপ নিতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি-এর নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুরে শেষ হওয়া এই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো, গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া হলেও, সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নতুন পে-স্কেলের নানামুখী ইতিবাচক প্রস্তাবের তথ্য পাওয়া গেছে।
নিম্নস্তরের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা
চলমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে এবারের পে-স্কেলে নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। বিপরীতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই নতুন কাঠামো। সুপারিশ অনুযায়ী:
সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেড: মূল বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ (১ম) গ্রেড: মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুখবর
চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও নতুন কাঠামোতে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক পেনশনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এই বৃদ্ধি তিন স্তরে বিন্যাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:
| বর্তমান মাসিক পেনশন | প্রস্তাবিত বৃদ্ধির হার (প্রায়) |
| ২০ হাজার টাকার কম | ১০০% |
| ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা | ৭৫% |
| ৪০ হাজার টাকার বেশি | ৫৫% |
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও বাজেট সমন্বয়
অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করার কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
এই বিশাল ব্যয় সামাল দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সরকারের বাজেট সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে সমস্ত সুপারিশ একবারে কার্যকর না করে, তা তিন ধাপে বা তিন অর্থবছরে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
১ জুলাই থেকেই কার্যকরের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
সম্প্রতি বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই, ২০২৬ থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৮ মে) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
আওতাভুক্ত হবেন যারা
নতুন এই পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী ও মাঠ প্রশাসনসহ সব স্তরের সরকারি চাকরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই পে-স্কেল অনুসরণের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা আসতে পারে।
পরবর্তী ধাপ
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির এই সুপারিশমালা চূড়ান্ত আকারে দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হবে। আর এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশজুড়ে বাস্তবায়িত হবে নবম জাতীয় পে-স্কেল।



