চিকিৎসা । আর্থিক সহায়তা

বিকেকেবি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আবেদনের প্রক্রিয়া ২০২৫ । সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কল্যাণ, যৌথবীমা ও দাফন অনুদান সেবা

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সরকারি ও তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মরত/অক্ষম/অবসরপ্রাপ্ত/মৃত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য মাসিক কল্যাণ অনুদান, যৌথবীমার এককালীন অনুদান এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুদান প্রদান করে থাকে।

সম্প্রতি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১৯ আগস্ট, ২০২৫ তারিখ থেকে অনুদানের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে সুবিধাভোগীরা বর্ধিত হারে অনুদান পাবেন।


💰 অনুদানের পরিমাণ (পুনর্নির্ধারিত হার)

অনুদানের ধরন১৯ আগস্ট, ২০২৫ এর পূর্বের হার১৯ আগস্ট, ২০২৫ তারিখ বা তার পরবর্তী সময়ের হারসর্বোচ্চ সময়কাল
মাসিক কল্যাণ অনুদানমাসিক ২,০০০/- টাকামাসিক ৩,০০০/- টাকাসর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত
যৌথবীমার এককালীন অনুদান২,০০,০০০/- টাকা৩,০০,০০০/- টাকা
দাফন অনুদান (কর্মচারী)৩০,০০০/- টাকা৫০,০০০/- টাকা (৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যুতে)
দাফন অনুদান (পরিবারের সদস্য)১০,০০০/- টাকা২০,০০০/- টাকা (কর্মচারীর ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যুতে)

👥 কারা এই সেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন?

সরকারি ও তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মরত, অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত, বা মৃত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যগণ এই সেবার গ্রহীতা।

  • মাসিক কল্যাণ অনুদান: চাকরি হতে অপসারিত, অক্ষমতার কারণে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, অথবা চাকরিরত অবস্থায় বা অবসর গ্রহণের ১০ বছরের মধ্যে মৃত কর্মচারীর পরিবার।

  • যৌথবীমা: চাকরিরত বা পিআরএল ভোগরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার।

  • দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুদান:

    • চাকরিরত অবস্থায়/অবসরের পর কর্মচারীর ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁর পরিবার।

    • চাকরিরত সরকারি কর্মচারীর পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুতে কর্মচারী।

    • বোর্ডের তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী বা তাঁর পরিবারের সদস্যের (৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত) মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবার/তিনি।


📝 আবেদনের প্রক্রিয়া ও সময়

এই সেবার জন্য বর্তমানে অনলাইনে এবং হার্ড কপি উভয় মাধ্যমেই আবেদন করতে হয়

  1. অনলাইন আবেদন: আবেদনকারীকে প্রথমে https://welfare.bkkb.gov.bd/ লিংকে গিয়ে আবেদন দাখিল করতে হবে।

  2. হার্ড কপি প্রেরণ: অনলাইনে আবেদন দাখিলের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষর করে একটি অগ্রায়ণপত্রের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয় বা বিভাগীয় পরিচালকের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

  3. সময়কাল: আবেদনসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুমোদনের পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে EFT-এর মাধ্যমে মঞ্জুরীকৃত অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়।

  4. যোগাযোগ: অনলাইনে আবেদন দাখিলের পর আবেদনকারী SMS এর মাধ্যমে আবেদনের ডায়েরি নম্বর, তারিখ ও ত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারেন। অনুমোদনের বিষয়টিও SMS এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।


📄 গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও কাগজপত্র

  • আবেদন অবশ্যই অনলাইনে করতে হবে এবং হার্ড কপিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অফিস কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষর করে সংযুক্ত করতে হবে।

  • মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী বা আবেদনকারী থাকলে প্রত্যেককে পৃথক আবেদন করতে হবে।

  • আবেদন ফরমে কর্মকর্তা/কর্মচারীর অফিস কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরসহ নামযুক্ত সিল নিশ্চিত করতে হবে।

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: সর্বশেষ বেতন নির্ধারণ বিবরণী (Pay fixation)/চাকরি বহির কপি, মৃত্যু সনদের ফটোকপি, ওয়ারিশান সনদ, ওয়ারিশগণ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), অবসরের অফিস আদেশের ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, শেষ বেতনের সনদ (LPC), স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুনরায় বিবাহ না হওয়ার সনদ (৫০ বছর পর্যন্ত) ইত্যাদি। প্রত্যেক প্রকার অনুদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিন্নতা রয়েছে, যা সংযুক্ত তালিকায় বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে।


📞 প্রতিকার ও তথ্য জানার জন্য

যদি কোনো সেবাপ্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ে সেবা পেতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রধান কার্যালয়ে পরিচালক (প্রশাসন)/মহাপরিচালক এবং বিভাগীয় কার্যালয়ে উপপরিচালক/পরিচালক বরাবর প্রতিকার চেয়ে যোগাযোগ করা যাবে।

  • কল্যাণ লাইন: ১৬১০৯

  • ওয়েবসাইট: www.bkkb.gov.bd

  • অনলাইন আবেদনের লিংক: https://welfare.bkkb.gov.bd/login

📰 কল্যাণ ভাতা ও দাফন অনুদান: সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন এবং সরাসরি অ্যাকাউন্টে অর্থপ্রাপ্তি

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (বিকেকেবি) কর্তৃক প্রদত্ত মাসিক কল্যাণ অনুদান এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুদানের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া এখন অনেকাংশে সহজ ও ডিজিটাল হয়েছে। সুবিধাভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনুসরণ করতে হবে সুনির্দিষ্ট ধাপ, যেখানে ধৈর্য এবং অনলাইন ট্র্যাকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. অনলাইন আবেদন সম্পূর্ণ করুন: প্রথম ও প্রধান ধাপ

কল্যাণ ভাতা ও দাফন অনুদানের জন্য আবেদনকারীকে প্রথমে বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (https://welfare.bkkb.gov.bd/login) গিয়ে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

  • সঠিক তথ্য আপলোড: আবেদন ফরমে উল্লিখিত সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নির্ভুলভাবে স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। মনে রাখবেন, অনলাইন আবেদনই অনুমোদনের মূল ভিত্তি।

  • এসএমএস সতর্কতা: অনলাইনে আবেদন দাখিলের পর আবেদনকারী SMS-এর মাধ্যমে আবেদনের ডায়েরি নম্বর এবং তারিখ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।

২. হার্ড কপি প্রেরণ: আবেদনপত্রের আনুষ্ঠানিকতা

অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণ করার পর, আপলোড করা কাগজপত্রাদির মূল হার্ড কপি অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথভাবে প্রতিস্বাক্ষর (Counter-signed) করে একটি অগ্রায়ণপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা (অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়) বরাবর প্রেরণ করতে হবে।

📌 গুরুত্বপূর্ণ: অনলাইনে আবেদন এবং হার্ড কপি প্রেরণ—এই দুটি ধাপ সম্পন্ন না হলে আবেদন প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

৩. ধৈর্য ও অনলাইন ট্র্যাকিং: অপেক্ষাই শেষ কথা

আবেদন সফলভাবে দাখিল করার পর সুবিধাভোগীকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। এই সেবার জন্য সশরীরে বারবার বোর্ডের অফিসে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই

বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী আপনার আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এই সময় আবেদনকারীর প্রধান কাজ হলো:

  • অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করা: নিয়মিতভাবে আপনার আবেদনটির সর্বশেষ অবস্থা অনলাইনে চেক করে দেখতে হবে যে এটি অনুমোদন হয়েছে কিনা।

  • আপত্তি নিষ্পত্তি (যদি থাকে): যদি কোনো কাগজপত্র বা তথ্যে ত্রুটি ধরা পড়ে (আপত্তি), তবে কর্তৃপক্ষ SMS বা অনলাইন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সেটি জানিয়ে দেবেন। টাকা পেতে হলে এই আপত্তি/ত্রুটিগুলো দ্রুত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন করে নিষ্পত্তি (মিটআপ) করতে হবে।

৪. অনুমোদন হলেই অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত

আবেদন সফলভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনুমোদিত হলেই তবে আবেদনকারী অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা পাবেন।

  • সরাসরি অ্যাকাউন্টে অর্থ: অনুমোদনের পর মাসিক কল্যাণ ভাতা এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুদানের মঞ্জুরীকৃত অর্থ সরাসরি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT)-এর মাধ্যমে আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ভুলভাবে আবেদন দাখিল এবং অনলাইন স্ট্যাটাস পর্যবেক্ষণ করলেই সেবাপ্রাপ্তি দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত হবে।

Alamin Mia

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *