নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম দিতে হবে না, আগের দরেই বিল পরিশোধের সুযোগ
বিদ্যুতের নতুন মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও নিম্ন আয়ের ও স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের বিপুলসংখ্যক নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর সরাসরি পড়বে না।
সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করা হলে আবাসিক গ্রাহকদের বিভিন্ন ধাপে ইউনিটপ্রতি মূল্য বৃদ্ধি পায়। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনায় দেখা যায়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হলে তা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। এ কারণে প্রথম দুটি ধাপের গ্রাহকদের জন্য মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রেখে আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন শ্রেণির ০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সাই বহাল থাকবে। একইভাবে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি মূল্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা নির্ধারিত থাকবে। অর্থাৎ এই দুই শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নতুন করে বাড়তি বিল পরিশোধ করতে হবে না।
এর আগে বিদ্যুতের মূল্য পুনর্নির্ধারণের সময় ০–৫০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি দাম বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং ০–৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ৬ টাকা ১৮ পয়সা করার প্রস্তাব কার্যকর করা হয়েছিল। এতে যথাক্রমে ৬৯ পয়সা ও ৯২ পয়সা করে ইউনিটপ্রতি মূল্য বৃদ্ধি পেত। কিন্তু সংশোধিত সিদ্ধান্তে সেই বৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অধিকাংশ নিম্ন আয়ের পরিবার সাধারণত একটি বা দুটি বাতি, একটি বা দুটি ফ্যান এবং সীমিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে থাকে। ফলে তাদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার সাধারণত ৫০ থেকে ৭৫ ইউনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্য বহাল রাখার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নিম্ন ধাপের গ্রাহকদের জন্য পুরোনো মূল্য বহাল রাখার কারণে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আয়ে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তবে সেই ঘাটতি সরকার ভর্তুকি বা অন্য কোনো আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমন্বয় করতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো একদিকে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ আবাসিক গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় বৃদ্ধি রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহারে উৎসাহিত করতেও এই ধরনের ধাপভিত্তিক মূল্য কাঠামো কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সার্বিকভাবে, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের মধ্যেও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য আগের দাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রমও ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।



