সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের (এটিইও) ৯ম গ্রেড প্রাপ্তির দাবিতে ধাক্কা: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অসম্মতি
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা উপজেলা ও থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) পদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্তে মাঠ পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত পদমর্যাদা বৃদ্ধি ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণের চেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক দাপ্তরিক চিঠি (১.jfif) থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চিঠির বিস্তারিত তথ্য:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সওব্য-১৪ শাখা থেকে গত ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (২৪ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) তারিখে জারিকৃত ওই চিঠিতে (স্মারক নং- ০৫.০০.০০০০.২৪৬.১৫.০০৫.০৪-৪০) স্বাক্ষর করেছেন উপ-সচিব তানিয়া সুলতানা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সম্বোধন করে পাঠানো ওই চিঠির বিষয়বস্তুতে বলা হয়েছে, “প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদের গ্রেড/বেতন স্কেল উন্নীতকরণ সংক্রান্ত।”
চিঠির মূল অংশে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অসম্মতি নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।”
প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট:
সরকারি নথি ও সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, এটিইওদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড (দ্বিতীয় শ্রেণী) থেকে ৯ম গ্রেডে (প্রথম শ্রেণী) উন্নীত করতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন কর্মকর্তারা। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল (স্মারক নম্বর: ৩৮.০০.০০০০.০০০১.০২.০১০.১৯-১১৭৭)। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ মে এ সংক্রান্ত একটি ইউও নোটের (নম্বর: ০৫.০০.০০০০.০০০.১৭৬.১২.০০০৩.২৫-৫২) মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনার টেবিলে আসে। তবে সব রকম যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ মে, ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চূড়ান্তভাবে এই প্রস্তাবে তাদের অসম্মতির কথা জানিয়ে দেয়।
ক্ষোভ ও হতাশার মুখে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই অসম্মতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাঠ পর্যায়ের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এটিইও জানান, তারা সরাসরি পিএসসির (বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন) মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেলেও তাদের কাজের পরিধি ও যোগ্যতা প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের সমকক্ষ। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়গুলোর নিবিড় পরিদর্শনে তারা মূল ভূমিকা পালন করেন। একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অন্যান্য দপ্তরের সমমানের পদের কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেড পেলেও এটিইওদের ক্ষেত্রে এই অসম্মতি অত্যন্ত বৈষম্যমূলক।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি এভাবে নাকচ হয়ে যাওয়ায় তাদের কাজের গতি ও মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা প্রকারান্তরে প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক সংস্কার ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে।
প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে নতুন কোনো রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে কিনা, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন দেশের হাজারো সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার।


