পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

পিআরএল ভোগরত অবস্থায় নারী কর্মচারীর মৃত্যু: সন্তানদের প্রাপ্য সুবিধাদি ও আইনি বিশ্লেষণ

#image_title

পিআরএল (PRL) বা অবসরোত্তর ছুটি ভোগরত অবস্থায় একজন সরকারি নারী কর্মচারীর মৃত্যু হলে তাঁর উত্তরাধিকারীগণ (স্বামী না থাকলে সন্তানগণ) কী কী আর্থিক সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে প্রায়শই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ‘সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এই সংক্রান্ত তথ্যাদি নিচে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো:


১. এককালীন ল্যাম্পগ্র্যান্ট ও আনুতোষিক (Gratuity)

যদি মৃত কর্মচারী পিআরএল-এ থাকাকালীন তাঁর অর্জিত ছুটির বিপরীতে পাওনা ল্যাম্পগ্র্যান্ট (১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা) উত্তোলন না করে থাকেন, তবে তাঁর সন্তানরা উত্তরাধিকার সনদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে তা পাবেন।

  • আনুতোষিক: পিআরএল ভোগরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে এটি চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হিসেবে গণ্য হয়। এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই সমহারে আনুতোষিক পাবেন (পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০-এর সংযোজনী-২১ দ্রষ্টব্য)।

২. পারিবারিক পেনশন (Monthly Pension)

পারিবারিক পেনশনের ক্ষেত্রে বয়সের একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে:

  • পুত্র সন্তান: ২৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্য হবেন। অর্থাৎ ২৫ বছরের বেশি বয়স হলে তিনি আর মাসিক পেনশন পাবেন না।

  • কন্যা সন্তান: অবিবাহিত, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা কন্যাগণ ১৫ বছর পর্যন্ত পেনশন পাবেন।

  • ব্যতিক্রম (প্রতিবন্ধী সন্তান): যদি কোনো সন্তান শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম বা প্রতিবন্ধী হন এবং তিনি যদি উপার্জনে অক্ষম হন, তবে তিনি আজীবন পেনশন পাবেন।

  • অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান: ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত গার্জিয়ানশিপের মাধ্যমে এই সুবিধা পাবেন।

৩. সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল (GPF)

জিপিএফ-এর গচ্ছিত টাকা উত্তরাধিকারী হিসেবে সন্তানরা পাবেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু আইনি শর্ত রয়েছে:

  • আইনসম্মতভাবে প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র সন্তান যদি শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম না হন এবং উপার্জনে সমর্থ হন, তবে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ উত্তরাধিকার আইন ও জিপিএফ বিধিমালা সাপেক্ষে বণ্টন নির্ধারিত হয়।

  • বিবাহিত কন্যা জিপিএফ-এর টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) বা উত্তরাধিকার সনদ অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।

৪. কল্যাণ বোর্ড ও দাফন অনুদান

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড থেকে নিম্নলিখিত সুবিধাদি পাওয়া যেতে পারে:

  • দাফন অনুদান: দাফন-কাফন বাবদ এককালীন ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করা হয়।

  • যৌথ বীমা: এককালীন ৩,০০০০ (তিন লক্ষ) টাকা।

  • মাসিক কল্যাণ অনুদান: ১৫ বছর পর্যন্ত মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে।

সতর্কতা: যদি সন্তানদের বয়স ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে হয়, তবে তারা সাধারণত মাসিক কল্যাণ অনুদান ও যৌথ বীমার টাকা পাওয়ার যোগ্য হন না (যদি না তারা প্রতিবন্ধী বা নির্ভরশীল হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় আসেন)।


তথ্যের সারাংশ (টেবিল)

সুবিধার ধরনশর্ত ও সময়সীমা
আনুতোষিক ও ল্যাম্পগ্র্যান্টছেলে ও মেয়ে উভয়েই সমহারে পাবেন।
মাসিক পেনশন (পুত্র)২৫ বছর বয়স পর্যন্ত।
মাসিক পেনশন (কন্যা)অবিবাহিত/বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা হলে ১৫ বছর পর্যন্ত।
প্রতিবন্ধী সন্তানআজীবন।
দাফন অনুদানএককালীন ৫০,০০০ টাকা।
জিপিএফ (GPF)পাওনা সাপেক্ষে সকল বৈধ উত্তরাধিকারী পাবেন।

মন্তব্য:

পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০ অনুযায়ী সরকারি পাওনা প্রাপ্তিতে উত্তরাধিকারীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো বিভ্রান্তি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাবরক্ষণ অফিস অথবা পেনশন সহজীকরণ আদেশের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহ (যেমন: অনুচ্ছেদ ৫(২)(এ)(i) এবং সংযোজনী-৭ ও ২১) প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পেশ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বিচলিত না হয়ে সঠিক নথিপত্রসহ আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *